জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির দ্বি-পাক্ষিক সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ-ইতালি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন ও উভয় দেশের সংসদ সদস্যদের সফর বিনিময় দুইদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করবে।' মঙ্গলবার সংসদ ভবনে তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালীর রাষ্ট্রদূত এনরিকো নানজিয়াটা সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তারা সংসদীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় চর্চা ও কার্যক্রম, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, টেকসই উন্নয়ন, তৈরি পোশাক শিল্প, এবং ইতালীতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, 'সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দুইটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যই বর্তমানে জনগণের পক্ষে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ছাড়াও একজন ব্যতীত বিএনপি’র সকল সংসদ সদস্য সংসদে যোগ দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের উপস্থিতি সংসদীয় কার্যক্রমকে অর্থবহ করে তোলে। প্রথম অধিবেশনই ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখছে।'
আন্তঃসংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'দুইদেশের সংসদের সম্পর্কের মাঝে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ নতুন মাত্রা যোগ করবে।' পাশাপাশি ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরী পোষাক শিল্পে বাংলাদেশিরা নেতৃত্ব দিচ্ছে।' ইতালির সেন্ট্রাল ব্যাংকের গতবছরের তথ্য অনুযায়ী ইতালি থেকে বাংলাদেশে ৭ মিলিয়ন ইউরো রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: এবার মেক্সিকোতে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকা ইতিবাচক, বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে মর্মে অবহিত হয়ে এনরিকো নানজিয়াটা বলেন, 'এ সফলতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্পসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের যেকোন প্রশ্নে ইতালি বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।'
এ সময়ে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
