সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় জলাবদ্ধতায় প্রতিবছর অনাবাদী জমির পরিমাণ বাড়ছে। বালি ও পলি পড়ে নদীর তলদেশ উঁচু হওয়া, হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের খাল ও নালা ভরাট এবং অপরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণের কারণে উপজেলার এ ১০টি হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়ে পড়ায় জমিগুলো অনাবাদী থেকে আগাছায় ভরে গেছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় বলছে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ৫ হাজার একর জমি অনাবাদী হয়েছে। তবে এলাকার কৃষক ও কৃষির সাথে সম্পৃক্ত লোকজন বলছেন- অনাবাদী জমির পরিমাণ হবে ১৫ হাজার একর। সমস্যার সমাধানে তারা নদী খনন, হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল ও নালা কাটা ও পরিকল্পিত স্লুইস্ গেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল তালুকদার বলেন, মাটিয়ান হাওরের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। হাওরটির ৭ হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতাজনিত কারণে দিন দিন অনাবাদী জমির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। শনির হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে শনির হাওরে জলাবদ্ধতাজনিত কারণে অনাবাদী জমির পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমানে হাওরটির ৫ হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শনির হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য হাওরটির পশ্চিম দিকে ১৯৯৫ সালে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু হাওরটির আহাম্মকখালী বাঁধটি সম্প্রসারিত করে স্লুইচ্ গেটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে হাওরটির উত্তর-পশ্চিম দিকের পানি নিষ্কাশনে সময় বেশি লাগে। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে করে জমিতে ধানের চারা লাগানো একমাস পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।
প্রকাশ, জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর করতে হলে হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বৌলাই, রক্তি ও পাটলাই নদী খনন করতে হবে। হাওরপাড়ের বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত স্থানীয় সংগঠন ‘হাওরবাসী জনফোরাম’ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, হাওরবাসীদের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় হাওরপাড়ের নদীগুলোর ২০ কিলোমিটার সরকারকে দ্রুত খননের উদ্যোগ নিতে হবে। হাওরের ভিতর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের খালগুলো খনন করতে হবে। মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটি জানায়, হাওরটির রতনশ্রী গ্রামের দশ কিয়ারের টেক থেকে পৈন্দার বিল পর্যন্ত একটি খাল খনন করতে হবে এবং হাওরটির খাল গাঙ থেকে মাটিয়ান বিলের বোয়ালমারা পর্যন্ত আরেকটি খাল খনন করলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করা এবং অকাল বন্যার হাত থেকে বোরো ফসল রক্ষায় নদী খননের বিকল্প নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন,আগামী তিন বছরের মধ্যে বৌলাই নদী খননের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফসারুজ্জামান বলেন, সিলেট উন্নয়ন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প একনেকে পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি হলেই হাওরবাসীর এ সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাওরের পানি বের হওয়ার জন্য খালগুলো খনন ও শনিরহাওরের স্লুইস গেটটি চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,একটু দেরিতে হলেও হাওরপাড়ের নদীগুলো খনন করা হবে। তাছাড়া হাওরের ভেতরের পানি নিষ্কাশনের ছোট ছোট খালগুলো খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
