বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে জোর তত্পরতা নেই

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৩
বঙ্গোপসাগরে পুনরায় জলদস্যুদের অপতত্পরতা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ শিকারে যেতে পারছে না উপকূলের জেলেরা। নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় একমাত্র মত্স্য আহরণের কেন্দ্র বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় জেলে পরিবারগুলোতে চলছে চরম দুর্দিন। অতি সমপ্রতি বঙ্গোপসাগরে জেলেদের বহরে জলদস্যুদের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির পর আতংক বিরাজ করছে জেলেদের মাঝে। কিন্তু ঐ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলের সাগর সীমানায় কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর তত্পরতা তেমন বৃদ্ধি করা হয়নি বলে জেলেরা অভিযোগ করেছেন। ফলে প্রতিদিন বঙ্গোপসাগরে জেলে বহরে হামলার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে জেলে শ্রমিকসহ ট্রলার মালিকদের। গত বছর র্যাবের অভিযানের মুখে সুন্দরবনের জুলফিকার বাহিনী ও রাজু বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি বাহিনী এলাকা ছেড়েছিল। এদের বেশ কিছু সদস্য র্যাবের অভিযানের মুখে মারা যায়। একই সময় ভোলা ও লক্ষ্মীপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় সকেট বাহিনী ও জামাল বাহিনীকে দমনে র্যাব ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু একেবারে নির্মূল করতে না পারায় তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইলিশ মৌসুম আসার সাথে সাথেই দিনের পর দিন বেড়েই চলছে জলদস্যুদের উত্পাত। জলদস্যুরা হামলা চালিয়ে ট্রলারে থাকা মাছসহ জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর ভিটেমাটি বিক্রি করে মুক্তিপণ দিয়ে জলদস্যুদের কবল থেকে তাদের মুক্ত হতে হচ্ছে। অতিসমপ্রতি জলদস্যুদের হাতে ৩৬ জেলে অপহরণের পর ১৯ জেলের লাশ উদ্ধারের খবরে চরম উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে জেলেদের মাঝে। তারা অনেকেই ভয়ে মত্স্য আহরণে এখন আর বঙ্গোপসাগরে যাচ্ছেন না। ফলে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। বৈশাখের বর্ষবরণের মূল খাবার ইলিশের আকাল এখন খোদ ইলিশের দেশ বরিশালেই প্রকট আকার ধারণ করেছে। বরগুনা জেলা মত্স্য শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান মাঝি জানান, নিরাপত্তা জোরদার না করায় জেলেরা সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছে না। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। এই জলদস্যু নিধনে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান আরো বৃদ্ধি করা না হলে জলদস্যুদের হাত থেকে জেলেদের রক্ষা করা বা মত্স্য সম্পদ থেকে আগের মত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে না। মুক্তিপণের বিনিময়ে কয়েকটি ট্রলার ও জেলেদের মুক্ত করে আনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আব্দুল মান্নান মাঝি জানান, সাগরে আগের মত মাছ ধরা পরছে না তার উপরে জলদস্যুদের এ রকম মোটা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের এ পেশায় টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। পাথরঘাটা ও কলাপাড়ার জেলেরা জানান, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম অংশে জলদস্যু তত্পরতা কম থাকলেও বর্তমানে পূর্ব দিকে জলদস্যুদের আক্রমণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই ভাবে লক্ষ্মীপুর সীমান্তের পরিবর্তে ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর-পাতিলা ঘেঁষে বঙ্গোপসাগর মোহনায় জলদস্যুদের অপত্তরতা আরো বেড়েছে বলে মত্স্য ব্যবসায়ীরা জানান। ফলে এসব স্থান থেকে এখন আর আগের মত বরিশালের মোকামে ইলিশ আসছে না। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড কোম্পানি কমান্ডার জানান, জলদস্যু দমনে তাদের টহল সাগরে অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব, পুলিশের সাহায্য নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে অনেক জলদস্যুদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশাল এই সাগরের সর্বত্র নিরাপত্তা দিতে আরো জনবল প্রয়োজন।