খাগড়াছড়িতে বৈসাবির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৪
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম সামাজিক উত্সব বিজু, সাংগ্রাই, বৈস্যু ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শহরে শান্তি ও সমপ্র্রীতির এক বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন। এ সময় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামস্, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম, জেলা পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান,সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শানে আলম, জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহেদুল আলমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন আদিবাসী সমপ্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ , শিশু-কিশোর-কিশোরী ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হয়ে এবং নেচে গেয়ে শোভাযাত্রা প্রাণবন্ত করে তুলে। এটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এখানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপজাতীয় শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গান পরিবেশন করে। ঐতিহ্যবাহী উত্সব বিজু, সাংগ্রাই, বৈস্যু ও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া-মহল্লায় এখন ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনায় চলছে নানা উত্সব আয়োজন। প্রধান সামাজিক এ উত্সবকে উপলক্ষ করে আদিবাসীদের গ্রাম-গঞ্জে ঘটা করে চলছে ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পারিবারিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া কর্মসূচির পাশাপাশি এখানে পার্বত্য জেলা পরিষদ, ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এ উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ ধরে খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরারা আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে ফুল বিজু পালন করবে। এ উপলক্ষে নারীরা ভবিষ্যত্ সুখ-শান্তি কামনায় ছড়া ও নদীতে ভাসাবেন ফুল। খাগড়াছড়িতে সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি আজ শুক্রবার ভোরে চেঙ্গী নদীর জামতলী পয়েন্টে ফুল ভাসানোর সার্বজনীন আয়োজন করেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় জেলা শহরের মধুপুর বাজার থেকে বের করা হবে সার্বজনীন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। আগামীকাল শনিবার পালিত হবে মূল বিজু। আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের ঘরে ঘরে পালন করবে মূল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। এদিকে আদিবাসীদের প্রধান এ সামাজিক উত্সবকে উপলক্ষ করে জেলা শহরসহ সকল হাট-বাজারে কাপড়ের দোকান, তরি-তরকারী ও মুদির দোকানে হাজার হাজার উপজাতীয়ের কেনা কাটার ভিড়ে গোটা এলাকা যেন উত্সবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। গতকাল সাপ্তাহিক হাটের দিনে জেলা শহর ছিল লোকে লোকারণ্য।