বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রফতানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্প খাত। তাই এ অবস্থা থেকে গার্মেন্ট শিল্পকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ খাতকে হরতালের আওতামুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি। তিনি এ খাতকে ‘গলা টিপে’ হত্যা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য। এসময় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি এস এম আব্দুল মান্নান কচি, সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াজ উদ্দীন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান, আহসান উল্লাহসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর থেকে ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয় করছে না। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে ২৭০টি রুগ্ন শিল্প রয়েছে, এভাবে চললে এর সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপী সংক্রান্ত সার্কুলার না মেনে কিছু ব্যাংক ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৩ মাস পরই খেলাপী করে দিচ্ছে, ফলে ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর সুদের হার কমানোর বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম ভেঙ্গে যেন কোন ব্যাংক ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করতে পারে তা দেখার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৈঠকে ঋণ খেলাপীকরণের সময়সীমা ৬ মাস হবে বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর গ্রহীতা কোনভাবেই খেলাপী হিসেবে বিবেচিত হবেন না। কোন ব্যাংক ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার আগে গ্রহীতাকে খেলাপী করে ঋণ প্রদানে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ৪০ লাখ শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এছাড়া পরোক্ষভাবে আরো কয়েক কোটি লোক এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল। এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হতে পারে তা আমাদের বুঝতে হবে। আর সে অবস্থা এড়াতে আমদানি-রফতানির কাজে নিয়োজিত পরিবহনগুলোকে হরতালের আওতামুক্ত রাখার অনুরোধ জানান। জানা গেছে, ব্যাংক সংক্রান্ত সকল সমস্যা তাত্ক্ষণিকভাবে সমাধানে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর।
