ছত্রীসেনা দম্পতি নেমে আসলেন পানিছড়া ড্রপ জোনে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৭
দেশের একমাত্র ছত্রীসেনা দম্পতি হিসেবে ইতিহাস গড়লেন মেজর নুসরাত নুর আল চৌধুরী ও মেজর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক। আর মেজর নুসরাত অর্জন করলেন সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় নারী ছত্রী সেনা হিসেবে স্বীকৃতি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় ৩ হাজার ফুট উপর থেকে সিলেটের পানি ছড়া ড্রপজোনে তারা সফলভাবে প্যারাস্যুট জাম্প শেষ করেন। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রথম নারী ছত্রীসেনা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন মেজর জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনিও এই পানি ছড়া ড্রপজোনে সফলভাবে প্যারাস্যুট জাম্প করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট-১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয় এ ট্রেনিং জাম্প কোর্সের। গত ৪ এপ্রিল দুটি জাম্পের মাধ্যমে শুরু হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় নারী প্যারাট্রুপারের প্যারাস্যুট বেঁধে মাটিতে নেমে আসার পালা। ৮ এপ্রিল তিনটি ও বৃহস্পতিবার আরো তিনটি জাম্প সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি। নুসরাতের স্বামী মেজর মঞ্জুরুলও সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডো ও ছত্রীসেনা। গতকাল সর্ব প্রথম ছত্রীসেনা দম্পতি হিসেবে একই সঙ্গে সফলভাবে বিমান থেকে প্যারাস্যুট জাম্প সম্পন্ন করেন তারা। প্রায় তিন হাজার ফুট উপর থেকে মাটিতে অবতরণ করে নারী হিসেবে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার কথা জানান মেজর নুসরাত নুর আল চৌধুরী। তিনি বলেন, কোর্স শেষ করতে পেরে আমি আনন্দিত। আকাশে উড়ার অনুভূতিটাই আলাদা। এ অনুভূতির কথা বলে বোঝানো যাবে না। সামাজিক অনুশাসনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা চ্যালেঞ্জ নিতে চায় না। তবে পরিবার থেকে সমর্থন পেলে নারীরা আরো ভাল কাজ করতে পারে। মেজর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক বলেন, পরিবারই যে কোন উন্নতির মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। নারীদের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পরিবারের সহায়তা প্রয়োজন। এ রকম চ্যালেঞ্জিং কোর্সে নারীদের এগিয়ে আসার মতো পরিবেশ সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান এ কথা জানিয়ে ১-প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার মেজর এম এম তৌহিদুল ইসলাম বললেন, নুসরাতদের এমন কৃতিত্ব নারীদের উত্সাহিত করবে।