জামায়াতের গঠনতন্ত্র মদিনা সনদ ও বাংলাদেশ সংবিধানের পরিপন্থি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৯
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র ‘ইসলামের প্রথম সংবিধান’ মদিনা সনদ, বাংলাদেশের সংবিধান ও জনগণের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা কাদিয়ানিদেরকে মুসলমান মনে করে না। বিভিন্ন সুফী সাধকদেরকে মুসলিম বলে মনে করে না। বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ইসির পক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এমকে রহমান উপস্থিত ছিলেন। হরতালের কারণে জামায়াতের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানিতে অংশ নেননি। তবে তাদের পক্ষে একজন কনিষ্ঠ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে তানিয়া আমীর বলেন, অনেকে মদিনা সনদকে পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান বলে মনে করেন। এই সনদের মাধ্যমে হযরত মোহাম্মদ (স.) অন্যদের সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন। এ সনদে মুসলমানদের সঙ্গে অপর পক্ষে যারা চুক্তি স্বাক্ষর করেন তাদের মধ্যে বিভিন্ন অমুসলিম গোত্র প্রধান, এমনকি নাস্তিকরাও ছিলো। মদিনার সকল জনগণ মিলে এই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামো নির্ধারণ করে। ওখানে ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার-এই ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়ে উঠে। ‘জামায়াত বলছে, তারা এ দেশে ইসলাম কায়েম করবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কিভাবে ইসলাম কায়েমের এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তানিয়া আমীর বলেন, চার কারণে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন পেতে পারে না। জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সকল ক্ষমতার উত্স বলে মনে করে না। সেইসঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সামপ্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। তিনি বলেন, নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষপদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবে না। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান’র সভাপতি হুমায়ূন কবির, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হাসানসহ ২৫ ব্যক্তি ২০০৯ সালে রিট আবেদনটি করেন। হাইকোর্ট ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করেন। ৬ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। রুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি(১)(বি)(২) ও ৯০(সি) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। গতকাল শুনানি শুরুর আগে ‘ইসির পক্ষ থেকে লিখিত জবাব আদালতে দাখিল করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। পরে আদালত আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন।