অর্থনীতিকে সচল রাখার একমাত্র উপায় বেশী বেশী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিসের মতে অর্থনীতি হচ্ছে একটি চলন্ত বাইসাইকেল। এ থেকে পড়ে যেতে না চাইলে এর প্যাডেল ঘোরাতেই হবে। প্যাডেল যতো জোরে ঘোরানো যায় সাইকেলটি ততো দ্রুত চলবে। আবার সামর্থ্যের বেশী ঘোরালে চালক কিছুক্ষণ পরে হাঁপিয়ে যেতে পারে এবং মন্থরতা নেমে আসতে পারে। যে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা দেশ যত বেশী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হবে তার অর্থনীতি ততো দ্রুত শক্তিশালী হবে। এতে কোনো ম্যাজিক নেই। অনেক দেশ তার সামর্থ্য, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের নিরিখে লাগসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। ফলে অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ ঘটে। চীন এর বড় উদাহরণ। সমাজতান্ত্রিক দেশ হয়েও ১৯৭৮ সালে অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচী হাতে নেয়। নব্বইয়ের দশক থেকে সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার সাথে বাজার অর্থনীতির কার্যকর সমন্বয় করে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়। দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পায়। অর্থনীতি দ্রুত বিকাশ লাভ করে। জার্মানী ও জাপানকে টপকিয়ে চীন ২০১০ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আবির্ভুত হয়। যদিও সমালোচকদের মতে, মোট দেশিয় উত্পাদন বা জিডিপি’র বিচারে দ্বিতীয় হলেও মাথাপিছু জিডিপি’র হিসেবে চীন এখনও কম উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে আছে। দেশটিতে ধনী-গরীব বৈষম্যও দ্রুত বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির উচ্চহার অব্যাহত থাকায় নিম্নআয়ের মানুষগুলো আয়-ব্যয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছে না। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর কাছে চীন এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এসব অর্থনীতির প্রতি চীনের চ্যালেঞ্জ ক্রমেই জোড়ালো হচ্ছে। ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়াসহ উদীয়মান দেশগুলোও চীনের পথে হাঁটছে। এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তি তাদের নারী। দেশগুলো তাদের নারীদের পুরুষের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রায় বৈষম্যহীনভাবে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। নারীরাও এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য নিজেদেরকে শিক্ষা ও জ্ঞানে যোগ্য করে তুলেছে। অর্থনীতির গতি বেড়েছে। এর সুফল নারী-পুরুষ সবাই ভোগ করছে। নারীর কর্মশক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বও এখন উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে অনুসরণ করছে। ২০০৫ সালের জাতিসংঘ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিশ্ব কর্মঘণ্টার দুই-তৃতীয়াংশ সময় কাজ করে নারী। কিন্তু বিশ্ব ইনকামের মাত্র ১০ শতাংশ আয় করে নারী। আবার বিশ্ব সম্পদের এক শতাংশেরও কম সম্পদে নারীর মালিকানা আছে। বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক অশিক্ষিত মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ নারী। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী কিন্তু স্কুলে যায় না এমন শিশুর ৬০ শতাংশই মেয়েশিশু। সাত বছরে এ বিশ্ব পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বর্তমানে বিশ্বের ৭১০ কোটি মানুষের মধ্যে ৩৫১ কোটি নারীর বৃহদাংশের ক্ষেত্রেই এ পরিসংখ্যান আংশিক বা পুরোপুরি প্রযোজ্য। তাই ছোট-বড়, ধনী-গরীব সব দেশই নারীর ক্ষমতায়ন ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যবিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি হিলারী ক্লিনটন প্রায় দুই মাস নীরব থাকার পর গত সপ্তাহে জনসমক্ষে এসেছেন বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও নারীর প্রতি বৈষম্য হ্রাস সংক্রান্ত জাতিসংঘের সিডো সনদে স্বাক্ষর করেনি। দেশটির নারীরা এখনও কর্মক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার। অনেকের মতে, হিলারী ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাচনী দৌড়ে অংশ নেবেন। এর প্রস্তুতি হিসেবে তিনি নারীর ক্ষমতায়নকেই লাগসই বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এখনও স্বল্পোন্নত দেশ। আইএমএফ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী জিডিপি’র ভিত্তিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষকরে বর্তমান সরকার নারী উন্নয়নে নারী নীতি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, হাইকোর্টের দিকনির্দেশনার আলোকে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে তিনজন করে নারী সদস্য আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদে নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনেও কাউন্সিলরের এক-তৃতীয়াংশ পদ নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে ১৫ হাজারের বেশী নির্বাচিত নারী সদস্য আছেন। পাশাপাশি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা করে নারীরা মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি তারাও ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনে জনগণের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাদের প্রস্তাব গৃহীত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে ৭০ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন প্রত্যক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এমপি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী, মন্ত্রী ও হুইপ হয়েছেন। সরকার পরিচালনা করছেন। দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন। রাষ্ট্রের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করছেন। নারী ও শিশু উন্নয়নে বর্তমান সরকার ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে। এজন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে। গ্রামে গ্রামে কম্যুনিটি ক্লিনিক হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। নারী ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশ ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। যা বিশ্বের আর মাত্র ১৫টি দেশ অর্জন করতে পেরেছে। গ্রামে গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য এখন আর পাঁচ কিলোমিটার দূরে যেতে হয় না। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই পাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা উপবৃত্তি পাচ্ছে। মেয়েরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনাবেতনে পড়তে পারছে। ডিগ্রীতে পড়ার ক্ষেত্রে সহায়তা কর্মসূচী চালু করা হয়েছে। এমন কোনো উপজেলা নেই যেখানে ২-৪টি কলেজ নেই। ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যন্ত লিঙ্গসমতা নিশ্চিত হয়েছে। এভাবেই নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। যা ক্ষুধা-দারিদ্র্য নির্মূলেও প্রণোদনা যোগাচ্ছে। কুসংস্কারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীদের সাহস যোগাচ্ছে। এতে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে অধিকার বঞ্চিত করার হীন চেষ্টার বিরুদ্ধে নারীকে প্রতিবাদী হতে উজ্জীবিত করছে। প্রতিবন্ধী শিশুরাও এ উন্নয়ন থেকে বাদ পড়েনি। তাদের শিক্ষা, সেবা-শুশ্রূষা, চাকরি ও সামজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে তারাও স্বাভাবিক শিশুদের মতো বেড়ে উঠতে পারে। কর্মজীবনেও নারীরা বেশ এগিয়ে এসেছে। বাংলার নারীরা এখন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দলে দলে অভিবাসী হচ্ছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হওয়ায় তাদের ভয় কেটে গেছে। পর্দার অন্তরালে রেখে নারীশক্তিকে ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের কাজে নিয়োজিত রাখার দিন ফুরিয়ে এসেছে। নারী আর এখন গৃহবন্দী থাকতে রাজী নয়। এনজিওগুলোও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নারীর পদচারণা দ্রুতহারে বাড়ছে। সব পেশায়ই এখন নারীরা কাজ করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশ সদস্যরা শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করছে। সশস্ত্র বাহিনীতে নারীর সাহসী উপস্থিতি সবার দৃষ্টি কাড়ছে। ব্যাংক, বীমা, টেলিফোনসহ সেবাখাতে নারীর অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি নারীরা শিল্প প্রতিষ্ঠায়ও ভাল করছে। সরকার নারী উদ্যোক্তাদেরকে বিনা জামানতে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পপ্লট দিচ্ছে। প্রতি জেলায় হেল্পডেক্স চালু করে নারীদের সহায়তা করছে। পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ করে দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ গ্রামীণ নারী জাগরণে যথেষ্ট প্রেরণা যুগিয়েছে। সরকার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ গুলোর মাধ্যমে যুব নারী-পুরুষকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে ঋণ দিচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে। তাদের একাংশ সুনির্দিষ্ট চাকরি নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময় নারীর বিদেশ যাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
সারণী থেকে দেখা যায়, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নারীকর্মীর বিদেশ যাওয়ার হারও বেড়েছে। ২০০৮ এর তুলনায় ২০১২ সালে দ্বিগুণ নারীকর্মী চাকরি করতে বিদেশে গেছে। এক দশক আগে ২০০২ সালে নারী অভিবাসীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ২১৬ জন। তাও তারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হতেন। নেয়া হতো এক কাজের কথা বলে। গন্তব্য দেশে যাওয়ার পর ভিন্ন কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তাও ঠিকমতো বেতন পেত না। ছুটি, বাসস্থান ইত্যাদির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এখন সরকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কাজের ধরন, বেতন, ছুটি, বীমাসহ চাকরিজীবী হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা আগেই চূড়ান্ত করে। সরকার টু সরকার ভিত্তিতে অভিবাসী যাচ্ছে বিধায় টাকাও খুব কম লাগছে। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক দেশে যাওয়ার খরচও গন্তব্য দেশ বহন করছে। নতুবা সরকার নবপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ দিচ্ছে। নারী প্রবাসে গিয়ে সুবিধামতো সময়ে ঋণ পরিশোধ করছে। প্রতিটি নারীকর্মীকে তার কর্মের জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গন্তব্য দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, শিষ্টাচার, আইনকানুন, প্রথা ইত্যাদি বিষয়ে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬৪টি জেলা ও ১৩৬টি উপজেলা নারী প্রশিক্ষণ কেন্দে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশগামী নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। দক্ষ নারীকর্মী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরো প্রশিক্ষণ কেন্দ স্থাপনের কাজ চলছে। বেসরকারি খাতের সাথে পার্টনারশীপের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নারীদের হাউস কিপার, গার্মেন্টস কর্মী, নার্স, কেয়ারগিভার, ফুড প্রসেসিং, ক্লিনার, ফিশ প্রসেসর, কারখানাকর্মী, রিসেপসানিস্ট, ফল আহরণকারী, বিক্রয়কর্মী, কৃষিকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে নারীকর্মীর বিদেশ যাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়েছে। গত চার বছরে ১ লক্ষ ১৮ হাজার নারীকর্মী সুনির্দিষ্ট চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছে। এতে গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়েছে। যার প্রভাব সমাজ ও রাজনীতিতে পড়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশ। সরকার নতুন নতুন শ্রম বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েছে। হংকং আগামী পাঁচ বছরে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে এক লক্ষ নারী হাউস কিপার নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের বেতন হবে মাসিক প্রায় ২৪ হাজার টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক পাস নারীরা দুই মাস প্রশিক্ষণ শেষে গৃহকর্মী হিসেবে হংকং যেতে পারবেন। সিঙ্গাপুরের চাহিদার ভিত্তিতে দেশটিতে জি-টু-জি পদ্ধতিতে নারী গৃহকর্মী রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী ও সহায়ক কর্মী নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অষ্টম শ্রেণী পাস হলেই হবে। এসব দেশে যেতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা খরচ হবে। অভিবাসী হতে ইচ্ছুক নারীদের অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে। পরে লটারীর মাধ্যমে কর্মী চূড়ান্ত করা হবে। অনেক দেশেই নারী নার্স ও গার্মেন্টস কর্মীর ব্যাপক চাহিদা আছে। বেতনও ভাল এবং সুযোগ-সুবিধাও বেশী। কয়েকটি দেশ গার্মেন্টস নারীকর্মীর ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাড়া দেয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নারীকর্মী গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের জন্য আরো ভাল সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। নারী কর্মীদের এ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে তাদের ও দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে। নারীরা পরিবার ও সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। এতে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হবে। একটি সুস্থ, সবল ও কার্যকর নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে। দেশের উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে। বাংলাদেশ আর্থ-সামজিক ও রাজনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।
বাংলাদেশ নিজস্ব চেষ্টায় আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এখন বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বিশ্বের কাছে রোল মডেল। নারীর অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন অনেক ধনী দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের প্রথম দশটি দেশের একটি। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও নারী এগিয়ে যাচ্ছে। ধর্মান্ধতা যাতে নারী ও দেশের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে তার জন্য সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নে সোচ্চার হতে হবে। বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী-পুরুষ সমন্বয়ে অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
সারণী: মোট জনশক্তি ও নারীকর্মী রপ্তানি (জন) এবং রেমিটেন্স প্রাপ্তি:
সাল ২০০৯ ২০১০ ২০১১ ২০১২
মোট জনশক্তি ৪,৭৫,২৭৮ ৩,৯০,৭০২ ৫,৬৮,০৬২ ৬,০৭,৭৯৮
নারীকর্মী ২২,২২৪ ২৭,৭০৬ ৩০,৫৭৯ ৩৭,৩০৪
রেমিটেন্স (কোটি ডলারে) ১,০৭২ ১,১০১ ১,২১৭ ১,৪১৬
