ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ২ হাজার ৮৩৭ জন ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট) দুঃস্থ কার্ডধারী নারী প্রতিমাসের বরাদ্দ থেকে ৬ কেজি খাদ্যশস্য কম দেয়া হচ্ছে।
দুঃস্থ নারীদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতি কার্ডধারীর জন্যে ৩০ কেজি খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়ে আসছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কার্ডের ওপরে ৩০ কেজি করে গম/চাল লেখা রয়েছে। নান্দাইল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দ হিসেবে প্রতি কার্ডধারীকে কাগজপত্রে ৪৮ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। এ হিসেবে দুঃস্থ নারীরা ১২ কেজি চাল কম পেয়েছেন।
নান্দাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন ইত্তেফাককে জানান, গম ও চালের বাজার দরের তারতম্য থাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে দুঃস্থ নারীদের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কার্ডধারীদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নান্দাইল উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, তাদের কাছে ভিজিডি কার্ডধারীদের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার কোন চিঠি আসেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসে নান্দাইল ইউনিয়নের প্রতি কার্ডধারীকে ৪৮ কেজি, খারুয়া ইউনিয়নে দেয়া হয়েছে ৪৬ কেজি, রাজগাতি ইউনিয়নে দেয়া হয়েছে ৪৬ কেজি, বেতাগৈর ইউনিয়নে দেয়া হয়েছে ৪৬ কেজি করে।
এ ব্যাপারে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা চালের বস্তার ওজন ঠিক থাকে না। প্রতি বস্তায় ২-৩ কেজি করে ঘাটতি থাকে। তাই কার্ডধারীদের সঠিক ওজনে বরাদ্দ বিতরণ কোনমতেই সম্ভব হচ্ছে না। নান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদে সম্প্রতি (২৪ মার্চ) ১৫৯ জন দুঃস্থ নারীর মাঝে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের ভিজিডি’র বরাদ্দ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়। কয়েকটি কার্ড হাতে নিয়ে দেখা যায় তাতে ২৪.৩৯ কেজি চাল বিতরণ হয়েছে বলে লেখা রয়েছে। তবে প্রতিটি ভিজিডি কার্ডের ওপরে ৩০ কেজি করে গম/চাল বরাদ্দ লেখা রয়েছে। কয়েকজন কার্ডধারীর বরাদ্দকৃত চালের পুঁটলি হেমগঞ্জ বাজারের একটি দোকানে ওজন দিয়ে দেখা যায় তারা ৪০/৪২ কেজি পেয়েছেন । সাভার উত্তর গ্রামের রিনা আক্তার (কার্ড নং ৮০)এর চাল ওজন দিয়ে দেখা যায়, তাকেও ৬ কেজি কম দেয়া হয়েছে।
