কচুয়া উপজেলায় চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। কখনও কখনও ঘন্টার মধ্যে ৮/১০ বার বিদ্যুত্ আসে আর যায়। এরূপ ঘন ঘন বিদ্যুত্ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক মিটার, বাল্ব, রিফ্রেজারেটর, কম্পিউটারের মাদারবোর্ড ও সেচপাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায়ই লো-ভোল্টেজে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়। ঘন ঘন বিদ্যুত্ চলে যাওয়া ও লো-ভোল্টেজে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যেন কৃষক ও গ্রাহকদের সাথে উপহাস করে চলছে বিদ্যুত্ বিভাগ। আবার প্রায়ই লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়ার প্রেক্ষিতে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
কৃষি বিভাগে দেয়া তথ্যানুসারে চলতি মৌসুমে কচুয়ায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে উক্ত বোরো চাষে সেচকার্য দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সেচকার্য বিঘ্ন ঘটায় বোরো ধান গাছ লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। মাঠে মাঠে সৃষ্টি হচ্ছে ফাটল। বর্তমানে শতকরা ৯০ ভাগ জমির বোরো ধান গাছে থোড় আসার মুহূর্তে সেচকার্য বিঘ্নিত ঘটায় থোড় আটকে যাচ্ছে। মাঠের পর মাঠে এ অবস্থা লক্ষ্য করে কৃষকরা আহাজারি করছে।
এছাড়া সন্ধ্যার পর লোডশেডিংয়ে গরম ও মশার উত্পাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা। উপজেলার প্রায় ৪৩ হাজার বিদ্যুত্ গ্রাহক ও বোরো চাষিদের কাছে বিদ্যুত্ যেন এক অভিশাপের নাম। জোনাল অফিসের ডিজিএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কচুয়ায় দৈনিক ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। অথচ সরবরাহ হচ্ছে ৭ থেকে সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্ চাহিদা মেটাতে না পারায় আমরাও উদ্বিগ্ন।
