রাজধানীতে প্রয়োজন আরো ফ্লাইওভার

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫২
রাজধানী ঢাকার পরিচিতি গড়ে উঠেছে যানজটের নগরী হিসেবে। এ পরিচিতির বিড়ম্বনা থেকে নগরবাসীকে রক্ষার জন্য বর্তমান সরকার বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মিরপুর-এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার ছিল এর মধ্যে অন্যতম। মিরপুরবাসীর এই স্বপ্নের ফ্লাইওভারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২৭ মার্চ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিরক্ষায় এই উড়ালপথটির নামকরণ করেছেন জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন নির্মাণ করেছে এই ফ্লাইওভারটি। ৩৬০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উড়ালপথের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি। চলতি বছরের জুন মাসে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তিন মাস আগেই তার কাজ শেষ হওয়ায় আগেভাগে উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে। এ ফ্লাইওভার নির্মাণের আগে মিরপুর থেকে গুলশান, বনানী ও উত্তরায় যাতায়াতকারীদের যানজটের কবলে নাভিশ্বাস উঠতো। আড়াআড়ি তিন কিলোমিটার পথের দূরত্ব অতিক্রম করতে পাড়ি দিতে হতো ১১ কিলোমিটার পথ। যানজট ও দূরত্ব মিলিয়ে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ফ্লাইওভারটি নির্মাণের ফলে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই গন্তব্যস্থলে যাওয়া সম্ভব হবে। মিরপুর-এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হলো। রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে। আনুপাতিক হারে গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও যানজটমুক্ত একটি রাস্তা নিশ্চিত করা যায়নি। ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন মানুষের কত কর্মসময় নষ্ট হয় তার কোনো হিসাব নেই। দীর্ঘ সময় গাড়ির জটে আটকে থেকে অনেকেই বিরক্ত এই মেগা সিটির ওপর। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ আপাতত বোধহয় খোলা নেই। আবার রাজধানীতে প্রতিদিন কী পরিমাণ গাড়ি চলাচল করছে, তার সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। প্রতিদিনই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানীতে দূরপাল্লার বাস আসছে। বাড়ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িও। প্রতিদিন বাইরে থেকে অনেক গাড়ি ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করে। যানজটমুক্ত মেগা সিটির জন্য যে কোনো শহরের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন। সেদিক বিবেচনায় ঢাকা শহরে মোট আয়তনের মাত্র ৮ শতাংশের কম সড়ক রয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন গাড়ি পথে নামায় শহরের যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়ছে এই মহানগরীর পরিধি। ফলে বাড়ছে পথের দৈর্ঘ্য। রাজধানীকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন অনেক দিনের। অনেকেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। পরিবেশবান্ধব ঢাকা মহানগরী গড়ে তোলা যায়নি। পরিকল্পনার অভাব সর্বত্রই পরিলক্ষিত। এই রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে হলে ফ্লাইওভারের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। কুড়িল ফ্লাইওভার ও যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার নির্মিত হলে রাজধানীর যানজট অনেক কমে যাবে বলে আশা করা যায়। আপাতত মিরপুর-বিমানবন্দর ফ্লাইওভার যানজটে ভারাক্রান্ত রাজধানীর কিছু মানুষের জন্য স্বস্তি এনে দেবে। আশার কথা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ফ্লাইওভারটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া গেছে। শুধু সদিচ্ছা থাকলেই যে অনেক বড় কাজ সহজে করে ফেলা সম্ভব, তা এই ফ্লাইওভার নির্মাণের ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। জনগণ আশা করে সরকার রাজধানীর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কগুলোতে ইন্টারসেকশন ফ্লাইওভার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করবে। রাজধানীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলবে। রাজধানীতে আরও তিনটি ফ্লাইওভার (উড়াল সড়ক) নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি)-ভিত্তিক আজিমপুর-গাবতলী ফ্লাইওভার নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত রাজউকের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে গোলাপশাহ মাজার (গুলিস্তান) থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভার। যানজট নিরসনে খিলগাঁও ও মহাখালী ফ্লাইওভার নির্মাণের সুফল কয়েক বছর ধরে নগরবাসী ভোগ করছেন। এদিকে কুড়িল-পূর্বাচল ফ্লাইওভারের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরেই নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সরকারের বর্তমান সময়সীমার মধ্যে যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অন্য যেসব ফ্লাইওভার নির্মাণাধীন রয়েছে তার কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। রাজধানীর যানজট জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে মেট্রো-রেলসহ আরও বেশি উড়ালপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। ঢাকা