বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালামের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার কথিত অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সার্টিফিকেট সহকারী পীযূষ কান্তি দাশ বাদী হয়ে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনে অভিযোগের পর পুলিশ মামলাটি রুজু করে।
থানায় প্রদত্ত এজাহারে বলা হয়, গত রবিবার ইউএনও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে আমতলী এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে দেখতে পেয়েছেন। এতে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। থানায় প্রদত্ত এ অভিযোগে ইউএনও নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য ওসিকে অনুরোধ করেছেন। তবে থানায় প্রদত্ত এজাহারে বিবাদী যে উপজেলা চেয়ারম্যান সে পরিচয় তুলে ধরা হয়নি।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম দাবী করেন, তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ইউএনও আসাদুজ্জামান বহিরাগত ভূমিদস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আলীকদম-থানচি রোডের মুরুং, মার্মা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের প্রথাগত ভোগ দখলীয় জুমচাষের জমি দখলে আস্কারা দিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিদস্যু প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন। এর ফলে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট ও ইউএনও তার প্রতি রুষ্ট। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জুমিয়াদের পক্ষাবলম্বন করায় ইউএনও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বানোয়াট অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের মাধ্যমে ভূমিদস্যু বিরোধ চলমান আন্দোলনকে নস্যাত্ করার চক্রান্তে লিপ্ত। ইউএনওর এহেন অপচেষ্টা চলমান আন্দোলনকে আরো গতিশীল করবে মন্তব্য করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
এ ঘটনায় জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবী করছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জনৈক বদিউল আলম গংসহ বহিরাগত ভূমিদস্যুদের পক্ষ নিয়ে ইউএনও জুমিয়াদের উচ্ছেদে তত্পর। এর প্রতিবাদ করায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও অভিযোগকারী এলাকাবাসীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলেও উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠু কোনো তদন্ত করছে না।
ইউএনও আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামের বিরুদ্ধে পাহাড় কেটে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনি উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আমতলী এলাকায় গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
এ জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হোসাইন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার পীযূষ কান্তি দাশ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়েরের পর নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে।
