শিশুর পেটে ব্যথা মানেই ক্রিমি নয়

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৪
শিশুদের পুষ্টিহীনতার জন্য কৃমি অনেকাংশে দায়ী। কৃমির সংক্রমণ হলে আপনি সন্তানকে যাই খাওয়ান না কেন তার একটা বড় অংশ কৃমির পেটে চলে যাবে। তবে পেটে ব্যথা মানেই কিন্তু ক্রিমি নয়। দাঁত কটমট করা, লালা পড়া ইত্যাদি হলেই যে ক্রিমি হবে তা নয়। একজন ডাক্তারই ক্রিমি ভালো শনাক্ত করতে পারবেন। তবে লক্ষণগুলো জানা থাকলে আপনিও লাভবান হবেন। কারণ যত আগে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সন্তানের জন্য ততই মঙ্গল । কিভাবে বুঝবেন ক্রিমির সংক্রমণ বিভিন্ন জাতের কৃমি শিশুদের শরীরে নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। শিশুদের কৃমির লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-খাওয়ার অরুচি, আয়রণের ঘাটতি ও রক্তশূন্যতার জন্য দুর্বলতা, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, এবং অপুষ্টিতে ভোগা, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া। কৃমির কারণে অ্যালার্জি, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, কফ-কাশি হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের কৃমি বিশেষ করে গোল কৃমি পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয় ও এপেনডিক্সে অবস্থান নিয়ে সংক্রমণ ঘটায় ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে। শরীরের নানা অঙ্গে কৃমি মরে গিয়ে স্টোন জমার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। কিছু কৃমি লিভারেরও ক্ষতি করে। চোখের ক্ষতি করে লোয়া লোয়া। কৃমির কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কম শোষিত হয়, ফলে ভিটামিন ‘এ’- এর অভার জনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন- ত্বক , অন্ত্রের এপিথেলিয়াম ও চোখের ক্ষতি হয়। প্রচুর সংখ্যক কৃমি একসাথে জমাট বেধে অন্ত্রের নালী বন্ধ করে দিতে পারে। চিকিত্সা দু’বছরের পর থেকে সকলের জন্য কৃমির ওষুধের ডোজ একই অর্থাত্ আপনি যে পরিমাণ ওষুধ খাবেন আপনার আড়ায় বছরের শিশুও একই পরিমাণ ওষুধ খাবে। তাই এ নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। বাড়ির সবার একসাথে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত্, এতে ক্রিমি থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়। সুস্থ মানুষ বা শিশুরা যদি ৪/৫ মাস পর পর কৃমির ওষুধ খান তবে কোন ক্ষতি হয় না। আজকাল দুই বছরের কম বয়সের শিশুদেরও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যায়, তবে তার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শিশু সুতা কৃমি বাদে অন্য কৃমিতে আক্রান্ত হলে মেবেনডাজল ১০০ মিলিগ্রামের ১টি বড়ি ১২ ঘণ্টা পরপর তিন দিন বা অ্যালবেনডাজল ৪০০ মিলিগ্রাম ১টা বড়ি বা পিপেরাজিন ৪ গ্রাম ১টি বড়ি খাওয়াতে হবে। সুতা কৃমি হলে মেবেনডাজল ১০০ মিলিগ্রাম বা অ্যালবেনডাজল ৪০ মিলিগ্রাম বা পিপেরাজিন ৪ গ্রাম ১টি বড়ি খাওয়াতে হবে। এর ২ সপ্তাহ পর আরও ১টি বড়ি খাওয়াতে হবে। গরমে কি ক্রিমির ওষুধ খাওয়াতে মানা মধ্যপ্রাচ্য সহ অনেক দেশে প্রচন্ড গরম থাকে সেখানে কি ক্রিমির ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে না। আসলে ক্রিমির ওষুধের জন্য শীত বা গ্রীস্ম কোন ব্যাপার নয়। যেকোন সময়ই খাওয়ানো যায়, এতে শিশুর কোন ক্ষতি হয় না। কৃমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার একটু সচেতন হলে কৃমি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি-১. খাবার পূর্বে ও টয়লেট থেকে আসার পর সাবান (লিকুইড সোপ হলে ভালো) দিয়ে হাত ধুতে হবে। ২. শিশুদের হাত ও পায়ের নখ ছোট রাখতে হবে। ৩. ছোট শিশুদের মলমূত্র পটি বা অন্যত্র ফেলে না রেখে তা উঠিয়ে কমোডে ফেলতে হবে। ৪. শিশুদের মলমূত্রেও জীবাণু থাকে তাই এদের মলমূত্র পরিষ্কারের পরও সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ৫. রান্নার পূর্বে শাক সবজি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ভালভাবে ধুতে হবে। এসময় অবশ্যই হাত ধুতে হবে । ৬. রান্নার পাতিল, থালা-বাসন নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ৭.খাবারে যাতে মাছি বসতে না পারে সেজন্য সবসময় ডেকে রাখতে হবে। ৮. মাংস, বিশেষ করে গরুর মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ করতে হবে। ৯. টয়লেটে যাওয়ার সময় অবশ্যই শিশুদের স্যান্ডেল পড়ানোর অভ্যাস করতে হবে। ১০. গৃহপালিত কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে। ১১. দু’বছর বয়সের পর প্রত্যেক শিশুকে ৬ মাস অন্তর অন্তর নিয়মিত কৃমির টেবলেট খাওয়াতে হবে। শিশুরা এমনিতেই পর্যাপ্ত খাবার খায়না তাই গৃহিত খাদ্যের একটা অংশ কৃমির কারণে অপচয় হলে তা শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যহানী ঘটায়। সুতরাং শিশুরা যেন কৃমির কারণে অপুষ্টিতে না ভোগে সে লক্ষ্যে মা-বাবাকে হতে হবে আরও সচেতন।