সিরিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে বিমান হামলা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৬
সিরিয়ার বিমান বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না হাসপাতালগুলোও। এতে হাজার হাজার লোক বেঘোরে মারা পড়ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)’র ‘ডেথ ফ্রম দ্য স্কাইস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ আইনের গুরুতর লংঘনের সঙ্গে জড়িতরা যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী।’ এইচআরডব্লিউ সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৫২টি এলাকা পরিদর্শন করে এ ধরনের ৫৯টি বীভত্স ও আইনবর্হিভূত হামলার তথ্য প্রতিবেদনে নথিভূক্ত করেছে। এইচআরডব্লিউ জানায়, সিরিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরকারের বিমান বাহিনীর দফায় দফায় নির্বিচার হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব হামলায় হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। হামলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লংঘন করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত তিনটি প্রদেশে সরেজমিন পরিদর্শনে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি যে তথ্য পেয়েছে তা রীতিমত ভয়াবহ। দেখা গেছে, বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি চারটি বেকারি ও দুটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের আলেপ্পো নগরীতে দার আল-শিফা হাসপাতালেই কেবল চারদফা হামলা হয়েছে। এইচআরডব্লিউ গবেষক ওলি সলভাং বলেন, ‘আমরা দেখেছি, গ্রামের পর গ্রাম বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর তাদের নিজ দেশের বিমান বাহিনীই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ হামলায় শতশত লোক হতাহত হয়েছে এবং বহু লোক বাস্তুচ্যুত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ ২০১২ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর বিমান হামলায় ৪ হাজার ৩শ’র বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের আজাজ শহরের এক বাসিন্দা জানান, গত বছরের ১৫ আগস্ট তার বাড়ির ওপর গোলা এসে পড়ে। এতে তার পরিবারের ১২ সদস্য নিহত হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, মা বোন ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ ১২ জন নিহত হয়। আমার ভাইয়ের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আমরা প্রথমে তাকে চিনতেই পারিনি। ভাইয়ের সন্তানরাও মারা যায়।’ এইচআরডব্লিউ জানায়, সিরিয়ার সেনাবাহিনী হামলার সময় গুচ্ছ বোমা, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আগুনে বোমা ব্যবহার করছে। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে সিরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে অবস্থানের জন্য রাশিয়া ও চীনের সমালোচনা করা হয়েছে। ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিনটি নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ভেটো দেয় রাশিয়া ও চীন। এইচআরডব্লিউ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্থনৈতিক অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ জাতিসংঘের নেয়া জরুরি।