দলে দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে বাটকে এক হাত নিলেন আফ্রিদি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩০
মোহাম্মদ হাফিজ ও প্রধান কোচ ডেভ হোয়াটমোর মিলে ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ উল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে- এমন অভিযোগ করার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ইজাজ বাটকে এবার একহাত নিলেন শহিদ আফ্রিদি। আর এই মুহূর্তে দলে জায়গা নিশ্চিত না হলেও ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দল থেকে অবসরে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই নেই তার। পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে এমন বেশ কিছু মন্তব্য করে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছেন বক্তব্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান। জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আফ্রিদি সাংবাদিকদের বলেন, বাট যখন বোর্ডের প্রধান ছিলেন তখন কি ধরনের বদনাম ছিল সবারই সেটা জানা আছে বলে আমি মনে করি। দলের জন্য ক্ষতিকর এমন ধরনের বিবৃতি না দিয়ে এই বয়সে বাড়িতে বসে বিশ্রাম নেয়াটাই ভাল বলে আমি মনে করি।’ বাট আফ্রিদি সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করলেও মিসবাহ’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য হাফিজ ও হোয়াটমোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের ব্যাপারটা মোটেই ভাল লাগেনি তার। আর বরাবরের মতোই চাঁছাছোলা ভাষায়ই বাটের বিরুদ্ধে নিজের পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করলেন তিনি। আফ্রিদি বলেন, ‘সবাই জানে তার আমলেই পাকিস্তান স্পট ফিক্সিং কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়ে এবং চরমভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এমনকি ঐ সময়েও বাট ঠিকমত বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘তার আমলে পাকিস্তান ক্রিকেটে আরো অনেক বিতর্ক ছিল। যা আমাদের ক্রিকেটের জন্য আদৌ সহায়ক ছিল না। সুতরাং যেহেতু সে এখন আর বোর্ড চেয়ারম্যান পদে নেই তাই এখন তার এমন ধরেন বিবৃতি দেয়া বন্ধ করা উচিত। বরং বাড়িতে এখন বিশ্রাম নেয়াটাই তার জন্য ভাল।’ দলের মধ্যে কোন সমস্যা নেই এবং বোর্ড খেলোয়াড়দের যথাযথ পাওনা ও সম্মান দিচ্ছে উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি মিসবাহ-হাফিজের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই এবং দল ঐক্যবদ্ধ আছে। এমন ধরনের বিবৃতি কেবল মাত্র আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে না দলেও খারাপ প্রভাব পড়বে।’ এর একদিন আগেই আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে আফ্রিদি কথা বলেছেন তার ভবিষ্যত্ চিন্তা-ভাবনা নিয়ে। এর পাশাপাশি নির্বাচক খেলোয়াড় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকার গুরুত্বের ব্যাপারেও কথা বলেছেন তিনি। যারা ভাবছেন আফ্রিদি ফুরিয়ে গেছেন, আফ্রিদি নিজে তাদের দলে নেই। আবারো পাকিস্তানের জার্সি গায়ে খেলার ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাসী এই তারকা। ৩৫৪ ম্যাচে ৭,২০১ রান এবং ৩৪৮ টি উইকেটের অধিকারী এই পাঠান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে ভাল অবস্থায় আছি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যেতে চাই। সত্যি বলতে কি, আমি ২০১৫ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি তবে এর সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই ফিটনেস এবং পারফরম্যান্সের ব্যাপারটাও জড়িত।’ আগামী জুন মাসে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ আসরে ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে তাকে। তবে ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেতে হলে চলমান জাতীয় ওয়ানডে কাপে ভাল ফল করতে হবে। নির্বাচকদের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে তাকে। আগামী মাসে ঘোষণা করা হবে এই সংক্ষিপ্ত তালিকা। তবে আশানুরূপ ফল না দেখাতে পারলে তরুণদের জন্য নিজেই জায়ড়া ছেড়ে দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আমি দেখেছি টেস্ট ম্যাচের জন্য আমার পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়, তখন আমি এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছি। আমি জোড়পূর্বক মাঠে নামবো না। আবার ভালো খেলতে না পারলেও নির্বাচকরা আমাকে দলে নেবে এমনটাও আমি চাই না।’