ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান
উপ-পরিচালক
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
বরিশাল অঞ্চল, বরিশাল
সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক। কিন্তু সৃজনশীল পদ্ধতি যে উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল নয়। সৃজনশীল পদ্ধতি প্রনয়ণের পূর্বে শিক্ষার্থীরা যেভাবে মুখস্থ নির্ভর ছিলো, বর্তমানে অনেকটা সে রকমই রয়ে গেছে। সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে বাজারে বিভিন্ন রকমের গাইডবই অথবা শিক্ষকরাই তাদের প্রশ্ন তৈরি করে দিচ্ছেন। ফলে তাদের মেধার কোনো বিকাশ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্ধারিত প্রকাশনীর গাইডবই পড়ার জন্য সাজেশন দিয়ে থাকেন। তারা নিজেরাও গাইডবই দিয়ে প্রশ্ন করেন। সৃজনশীলতার পরিধিকে তারা সংকীর্ণ করে রাখছেন। এ অবস্থা থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক মহোদয় পাঠ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের অ্যাসেইনমেন্ট দিতে পারেন। যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব প্রতিভার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। বিকশিত করতে পারে তাদের প্রতিভাকে। তবেই তারা পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীলতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে। সৃজনশীল পদ্ধতিটাকে শিক্ষার্থীরা সাদরে গ্রহণ করেছে। যার ফলাফল আমরা দেখতে পেয়েছি ইতোপূর্বের বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে। সৃজনশীল পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যটাকে যদি আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিকশিত করতে পারি, তবেই পূর্ণ হবে আমাদের শতভাগ উদ্দেশ্য।
সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে এ শিক্ষা। শিক্ষার গুনগত মানের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে সর্বাগ্রে। শিক্ষকগণ সযত্ন লালনে গড়ে তুলবেন তাদের। এজন্যে আদর্শ শিক্ষকের গুনাবলিতে সমুন্নত থাকতে হবে এ সমাজকে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী যেন সকল প্রকার ভয়ভীতির উর্ধ্বে থাকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষকের দৃঢ় আস্থা থাকতে হবে তাঁর সকল শিক্ষার্থী শেখার সামর্থ্য সম্পন্ন। সবার গতি প্রকৃতি এক নয়। উপযুক্ত পরিবেশ ও সহযোগিতা পেলে সবাই শিখতে পারে। তাই শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে গঠনবাদী শিখন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
