১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম গতকাল শনিবার সিলেটকে অচল করে বড় ধরনের শোডাউন করেছে। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজার-জিন্দাবাজারসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে অগণিত মাইক লাগিয়ে তারা মহাসমাবেশ করেছে। বিকালে সমাবেশ শুরু হলেও সকাল ১০টার দিকেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় হেফাজত কর্মীরা। নগরীর ব্যস্ততম এলাকার অধিকাংশ সড়ক বন্ধ করায় অন্য সড়কগুলোতে দেখা দেয় তীব্র যানজট। মহাসমাবেশস্থলের আশপাশের বৃহত্তর এলাকাজুড়ে থাকা বড় বড় মার্কেটসহ অন্যান্য দোকানপাট কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। হেফাজত কর্মীরা তাদের মনমতো সড়ক বন্ধ করায় গোটা নগরীই যেনো দিনভর অচল ছিল। অথচ এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। জনদুর্ভোগ লাঘবে কেউ এগিয়ে আসেনি। পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এমনকি সমাবেশস্থল ছাড়া নগরীর অন্যান্য প্রান্তে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশও দেখা যায়নি।
এব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি ইত্তেফাককে বলেন, হেফাজতের মহাসমাবেশের কারণে নগরীতে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ে তিনি কোন কথা বলবেন না। এব্যাপারে এসএমপির ডেপুটি কমিশনারের সাথে কথা বলার জন্য তিনি বলেন। প্রশ্নের জবাবে কমিশনার জানান, লিখিত অনুমতি নিয়েই হেফাজতে ইসলাম মহাসমাবেশ করেছে।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের অনেক বক্তা, সিলেটকে অচল করে দেয়ায় হেফাজত কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে সকল দাবি পূরণ না হলে একই কায়দায় আমরা পুরো দেশ অচল করে দেবো।
