হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা নুর হোসেন কাশেমী বলেছেন, মুসলমানদের ইমান আকিদা সংরক্ষণ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই তারা ১৩ দফা দাবি দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার অনতিবিলম্বে এই দাবি মেনে নেবে। যদি দাবি মানা না হয়, সেক্ষেত্রে আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্যে তিনি জনতার প্রতি আহ্বান জানান। শনিবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার খাগডহর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন বাইপাস সড়কে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই মহাসমাবেশের আয়োজকের দায়িত্ব পালন করে ইত্তেফাকুল উলামা। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সমাবেশ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলা থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীরা গাড়ির বহর ও মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগদান করে। সকালে বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইত্তেফাকুল উলামার নেতা মাওলানা মনসুরুল হক।
ইত্তেফাকুল ওলামার কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জি হুজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মাওলানা সাইদুর রহমান, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামি, মুফতি মো. তৈয়ব হোসাইন, মাওলানা মইনুদ্দিন রুহি, মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী, সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা খালেদ সাইফুল্ল¬াহ সাদী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। হেফাজতে ইসলামের ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে সারাদেশ ব্যাপী মহাসমাবেশের ঘোষণা অনুযায়ী এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ চলার সময় শহরে র্যাব ও বিজিবির টহল ছিল। পাশাপাশি সমাবেশস্থলসহ আশপাশের এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বক্তারা আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করে বলেন, মাহমুদুর রহমানকে যারা রাষ্ট্রদ্রোহী বলে তারাই মূলত রাষ্ট্রদ্রোহী, নাস্তিক, মুরতাদ। মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দেয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হমকি দেন নেতারা। তারা সরকারকে মুনাফেক হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। তারা উল্লেখ করেন, জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। কাজেই সংবিধান সংশোধন করে জনগণের মৌলিক এ ঈমানী দাবি পূরণ করতে হবে। যারা ইসলামের বিরোধিতা করে তারা কমরেড। কমরেডরা সাধারণত নাস্তিক হয়। সরকারকে নাস্তিকদের পথ পরিহার করে ইসলামের পথে আসারও আহ্বান জানান হয় সমাবেশ থেকে।
