নানা আয়োজনে বর্ষবরণ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩১
১৪২০ বঙ্গাব্দের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গানে গানে নতুন বছরকে বরণ করেছে দেশের মানুষ। বিভিন্ন জেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়জনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। কোন কোন স্থানে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, ঘুড়ি ওড়ানো উত্সবের মধ্য দিয়ে শেকড়ের সন্ধান করেছে মানুষ। আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলারও। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ১৪২০ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন সকালে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে দিনের শুভ সূচনা হয়। রাজবাড়ি মাঠে বসেছে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা। গাজীপুর ক্লাব লিঃ-এর বর্ষবরণ উত্সবের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক। এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রবিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে প্রভাতী সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুত্ফর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জহিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম মহিউদ্দিন খাঁ, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন। এরপর লাঠি খেলা, কাবাডি প্রতিযোগিতা, বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, বাংলা ১৪২০ সালের প্রথম প্রভাতে দিনাজপুর স্টেশন ক্লাবে প্রভাতী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ করা হয়। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বৈশাখী উত্সব পরিষদ, নবরূপী, দিনাজপুর পল্লী সাংস্কৃতিক নিকেতন, পাহাড়পুর চাউলিয়াপট্টি মিলনায়তন সমিতি প্রভৃতি সংগঠন পৃথক পৃথকভাবে বর্ষবরণে প্রভাতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জেলা প্রশাসন ও বৈশাখী উত্সব পরিষদের যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এক বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক আহমদ শামীম আল রাজী, পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ নেতৃত্ব দেন। রাজশাহী অফিস জানায়, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় মৌলবাদ প্রতিরোধের প্রত্যয় আর শেকড়ের সন্ধানে নববর্ষ বরণ করতে রবিবার রাজশাহী মহানগরী ছিল উত্সবমুখর। সূর্যোদয়ের আগেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু সাদা-লাল পোশাকে পদ্মার পাড়ে ফুদকিপাড়া মুুক্ত মঞ্চে সমবেত হয়। সেখানে সমবেত কণ্ঠে বৈশাখী গান গেয়ে রাসিকের বর্ষবরণ শেষে সকাল ৮টায় পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা হয়। ৭টায় রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, মেয়র পত্নী শাহীন আকতার রেনীর নেতৃত্বে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শিশু একাডেমীতে শেষ হয়। সাড়ে ৯টায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ নগরীতে শোভাযাত্রা বের করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রা.বি) বর্ণিল শাড়ি, পাঞ্জাবি পরে শিক্ষার্থীরা ইলিশ-পান্তা খেয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করে। সকাল ৯টায় চারুকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজান উদ্দিন। এদিনটিতে হাসপাতাল, কারাগার, সেফহোম, এসওএস শিশু পল্লীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবার পরিবেশিত হয়। খুলনা অফিস জানায়, পহেলা বৈশাখ সকাল সাড়ে সাতটায় নগরীর সার্কিট হাউজ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরী বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল জলিল, খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, কেসিসি’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র আজমল আহমেদ তপন, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। বিকালে শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেট অফিস জানায়, বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে স্বাগত জানাতে মানুষের ঢল নামে নগরীতে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, চিত্রাঙ্কন ও সাঁতার প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্লু-বার্ড উচ্চ বিদ্যালয়, সুরমার তীর ও শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার। রংপুর প্রতিনিধি জানান, বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পাশাপাশি নগরীর প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুরাতন বছরের হিসেব শেষ করে নতুন বছর উপলক্ষে হালখাতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে রংপুর জিলা স্কুল বটমূল প্রাঙ্গণ থেকে রঙ-বেরঙের ফেস্টুন, ব্যানার হাতে, মুখোশ পরে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরী প্রদক্ষিণ করে। পরে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পরিচালনায় সকাল থেকে রাত অবধি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। বিকালে জিলা স্কুল মাঠে নোহালী লাঠিয়াল দল ও তিস্তা লাঠিয়াল দলের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পান্তা ইলিশ, শিশুদের চিত্রাংকন, ছড়া পাঠ, কবিতা পাঠ, হা ডু ডু প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি ওড়ানো প্রদর্শনী, নাইওরী সমাবেশ, পিঠা প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দিবসের প্রথম প্রহরে বর্ণিল সাজে সেজেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। রবিবার সকালে ঢাক-ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে হাতি-ঘোড়ার মুখোশ পরে রঙ-বেরঙের প্লেকার্ড হাতে স্থানীয় লোকনাথ উদ্যান থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। স্থানীয় ফারুকী পার্কে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নূর মোহাম্মদ মজুমদার। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বর্ষবরণ উপলক্ষে শহরের আলতাফুন নেছা খেলার মাঠে ও পৌর শিশু উদ্যানে ৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন পৃথক শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, রবিবার ভোরে স্থানীয় স্বাধীনতা অঙ্গনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জেলা প্রশাসক মো. নূর-উর-রহমানের পৃষ্ঠোপোষকতায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা খাওয়ার মধ্য দিয়ে রবিবার গোপালগঞ্জে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে শিল্পীরা গান গেয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। এরপর জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরে বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়িসহ আবহমান বাংলার বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। জেলার শতাধিক স্থানে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে পান্তা ইলিশ পরিবেশন করা হয়। শেখ রাসেল শিশু পার্কে ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, উত্সবমুখর পরিবেশে জেলার সর্বত্র পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। সকালে মাইজদীতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল নামে। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নানা রঙ্গের প্ল্যাকার্ড নিয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। জেলা প্রশাসন শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে পান্তা উত্সব, সাপের খেলা, লাঠিখেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে রবিবার সকালে জেলা সদর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামসুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ করিম, পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মেলায় লংগদু সেনা জোনের জোয়ানরা প্রদর্শন করছে বিরল প্রজাতির গোখরো সাপ, অজগর সাপ ও বানর। নিয়মিত আয়োজন থাকছে লোকজ গানের। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, রবিবার ময়মনসিংহে বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ আয়োজিত আনন্দ শোভা যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। শোভাযাত্রায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান ফকির, সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা, নৌকা বাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো, ষাঁড়ের লড়াই, পন্তা-ইলিশ ভোজসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১লা বৈশাখ উদযাপন করে। রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী কালেক্টরেটের আম্রকানন চত্বরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী উত্সব ও চৈত্র সংক্রান্তি মেলা। রবিবার সকালে প্রভাতী সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এরপর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। নেতৃত্ব দেন জাতীয় সংসদের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের ব্যানারে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের উদ্যোগে পৃথক শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া জেলা আইজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পান্তা ইলিশের আয়োজন করে। হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। সাধারণ পাঠাগার আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মহানন্দা সঙ্গীত নিকেতনের শিল্পীরা গান পরিবেশন করে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভিরা গান ও এবং কবিগানের আয়োজন করা হয়। মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, রবিবার সকালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আবাহন সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে দিনটিকে বরণ করা হয়। শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী পাবলিক লাইব্রেরি, ইসলামী ফাউন্ডেশন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সদর উপজেলা পরিষদ আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস সৈয়দ মহসীন আলী। নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নরসিংদী জেলা প্রশাসন তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ অনুযায়ী রবিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রভাতী অনুষ্ঠান, সাড়ে সাতটায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সকাল ১০টায় মুসলেহ উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা। বিকেলে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পহেলা বৈশাখের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, রবিবার সকালে জয়পুরহাট আবুল কাশেম ময়দান থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম সোলায়মান আলী প্রমুখ। বিকেলে শহীদ আবুল কাশেম ময়দানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রবিবার সকালে বর্ণমালা খেলাঘর আসরের উদ্যোগে শিরিষতলায় নতুন বছর বরণ করা হয়। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন, হবিগঞ্জ পৌরসভা, খোয়াই থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, রবিবার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুরাতন কালেক্টরেট ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শাহিন মনোয়ারা হক। এর আগে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ নওগাঁর আয়োজনে নওগাঁ জেলা সমবায় অফিস চত্বরে সূরের মূর্ছনায় নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়। পরিষদের সভাপতি এডভোকেট খায়রুল আনমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শাহিন মনোয়ারা হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এনামুল হক। এছাড়া লক্ষ্মীপুর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, বরগুনা, লালমনিরহাট, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং বসে বৈশাখী মেলা।