দেশের বর্তমান সংকট নিরসনে সকলকে একত্রিত হয়ে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য উপায় খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। রাঙ্গামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের বৈসাবি উত্সবের শেষ দিনে সাংগ্রাই জল উত্সবে গতকাল সোমবার অংশ নিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐক্যের জন্য আরো বেশি ন্যায়পরায়ণতা ও সহিষ্ণু মনোভাব নিয়ে সকলকে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। রাঙ্গামাটির আসামবস্তি নারিকেল বাগানে মারমাদের সাংগ্রাই জল উত্সবে গতকাল প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।
ড্যান মজীনা আরো বলেন, বাংলাদেশের ঐক্যের জন্য আরো বেশি ন্যায়পরায়ণতা ও সহিষ্ণু মনোভাব নিয়ে সকলকে সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলের মারমা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির সঙ্গে মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জনগোষ্ঠী। পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের চমত্কার কর্ম শক্তি, প্রাণচাঞ্চল্য, সৃজনশীলতা, উদারতা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই নববর্ষ উত্সবের সঙ্গে আসুন—আমরা সবাই বৈচিত্র্যময়তার প্রতি সহিষ্ণুতা গড়তে ও বজায় রাখতে সংকল্পবদ্ধ হই। যা ৪২ বছর আগে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন বৈশিষ্ট্য। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে আইন প্রণয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহ তাদের নিজ নিজ ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সংরক্ষণে সুযোগ পাবে।
মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা (মাসাস) আয়োজিত এ পানি খেলা উত্সবে রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরোয়ার হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগমসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে জল উত্সবে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটায়। আগের বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি ধুয়ে মুছে দিতে মারমারা এ পানি খেলা উত্সব পালন করে।
