আমার দেশ পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জবরদস্তিমূলকভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপতে দিচ্ছে না সরকার। গত ১১ এপ্রিল সকালে পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার পর রাতে অবৈধভাবে প্রেসে তালা লাগিয়ে দেয় ডিবি পুলিশ। এরপরও তিন দিন আইন অনুযায়ী বিকল্প পন্থায় পত্রিকা ছাপা হয়। কিন্তু গত ১৩ এপ্রিল রাতে আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে অভিযান চালিয়ে জবরদস্তিমূলকভাবে পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দেয় এবং সার্কুলেশন ও প্রেস বিভাগের ১৯ জন কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা খাতুন (মাহমুদুর রহমানের মা ) ও আল ফালাহ প্রেসের কীপার ও সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ অবস্থায় পত্রিকা ছাপা বন্ধ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পত্রিকা প্রকাশে সব ধরনের বাধা দূর করা, মাহমুদুর রহমান ও প্রেস কর্মীদের মুক্তি এবং দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়া আশা প্রকাশ করা হয়, তা না হলে আইনি লড়াইয়ের পর আবারো পত্রিকা প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন আমার দেশ’র নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আমার দেশ’র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সালেহ উদ্দীন আহমেদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ফিচার সম্পাদক হাসান হাফিজ, মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহীম চৌধুরী প্রমুখ।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী সালেহ উদ্দীন বলেন, সরকার অবৈধভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দিয়েছে। পত্রিকার ছাপায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি আদালত অবমাননার শামিল। কারণ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছিল। আমার দেশ প্রকাশনা বন্ধ করে সরকার স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনি লড়াইয়ের পর আবারও পত্রিকা প্রকাশিত হবে ইনশাল্লাহ। সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ইতোপূর্বে ২০১০ সালের ১ জুন গভীর রাতে আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দৈনিক আমার দেশ পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১১ জুন রাতে সার্চ ওয়ারেন্টের নামে আমার দেশ প্রেসে তল্লাশি ও এক পর্যায়ে সেটি তালাবদ্ধ করে পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত করা হয়। এর আগে গত ১১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মাহমুদুর রহমানকে কারওয়ান বাজারস্থ আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে ডিবি ও তেজগাঁও থানা পুলিশ যৌথভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পত্রিকা অফিসে অবস্থানরত সংবাদকর্মীদের মারধর এবং সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে বাধা দেয়। মাহমুদুর রহমানকে একটানা ১৩ দিন রিমান্ডে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার দেশ’র সংবাদকর্মীরা এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাননি। এ ঘটনায় সংবাদকর্মীরা উদ্বিগ্ন। আমার দেশ’র কেন্দ্রীয় অফিসে কর্মরত প্রায় তিনশ’ সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে কর্মরত আরও প্রায় ৫০০ সাংবাদিক ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সরকার আমার দেশ’র প্রকাশনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বা ডিক্লারেশন বাতিল না করলেও বেআইনিভাবে ছাপাখানা বন্ধসহ নানাভাবে পত্রিকা প্রকাশ যাতে বন্ধ থাকে তার সব পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা সরকারি এ পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছি।
