নিজেদের ছাপাখানায় বেআইনিভাবে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা আমার দেশ পাবলিকেশন্সের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে ‘দি প্রিন্টিং প্রেসেস এন্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লারেশন এন্ড রেজিষ্ট্রেশন) এ্যাক্ট-১৯৭৩’ এর আওতায় সহকারী কমিশনার (প্রকাশনা) নাসরীন সুলতানা রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। এদিকে গত শনিবার গভীর রাতে একই অভিযোগে সংগ্রামের প্রেস থেকে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদেরও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, শনিবার রাতে মামলাটি করা হয়েছে। এই মামলায় আটক ১৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অননুমোদিত ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগে আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন। ঢাকার জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, আমার দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে একটু সময় লাগবে। গত বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর ওই রাতেই তাদের ছাপাখানায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। পরদিন থেকে অন্য ছাপাখানায় সীমিত আকারে পত্রিকাটি ছাপা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অন্য ছাপাখানা ব্যবহার করে পত্রিকা ছাপা হওয়ার বিষয়ে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেয়নি। তবে পত্রিকা ছাপা হওয়ার বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছে। তবে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ দাবি করেছেন, ছাপাখানায় তালা লাগিয়ে দেয়া হলেও পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করেনি সরকার। বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা ছাপা হওয়ার বিষয়টি আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অনুমতি নিয়েই পত্রিকা ছাপা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে রাষ্ট্রদ্রোহসহ তিন মামলায় ১৩ দিনের রিমান্ডে থাকা মাহমুদুর রহমানকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন। এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে দৈনিক সংগ্রামের ছাপাখানা আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে অভিযান চালিয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার পাঁচ হাজার কপি উদ্ধার করে পুলিশ। কোর্ট রিপোর্টার জানান, বেআইনিভাবে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা মুদ্রণ, বিতরণ ও বিক্রয়ের অভিযোগে গ্রেফতার ১৯ কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- স্বপন হোসেন, সুমন হোসেন, সাব্বির রহমান, আরাফাত রহমান, সুমানিক, জিয়াউর রহমান, সোহাগ, মাসুদ, দুলাল, আবু নাইম, আপেল মাহমুদ, আল আমিন, শাকিল ইসলাম, মিঠুন চন্দ্র দাস, রাজিব, আবদুর রউফ, মাহমুদুর রহমান, মনজু ও রমজান হোসেন। গত রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্র্রেট শামসুল আরেফিন এ আদেশ দেন।
মাহমুদুর রহমানের মা আগাম জামিন চেয়েছেন
এদিকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম গতকাল সোমবার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চে এ জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পত্রিকাটির প্রিন্টিং প্রেস সিলগালা করে দেয়া হয়। সরকার নতুন করে আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করেনি। ডিক্লারেশন আছে এমন একটি অনুমোদিত পত্রিকা যদি কোন কারণে নিজ ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপাতে না পারে তাহলে প্রিন্টিংপ্রেসেস এন্ড পাবলিকেশন্স আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী অন্য ছাপাখানায় ছাপাতে পারে। সেই কারণে আমার দেশ পত্রিকা আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে ছাপানো হয়েছে। কোন আইন ভঙ্গ করা হয়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়।
