বিদেশে বর্ষবরণ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
উত্সাহ-উদ্দীপনা আর নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে রবিবার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি সম্প্রদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাদ্য ও হস্তশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে নববর্ষ-১৪২০ উদযাপিত হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে রবিবার এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি’র বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিবারের সদস্য এবং ওয়াশিংটনস্থ প্রবাসী বাঙালি শিল্পীরা কোরাসে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের গান ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো,’ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। বাংলা নববর্ষ-১৪২০-কে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রদূত কাদের আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বহির্বিশ্বের সকল দেশে বসবাসরত বাঙালিদের এবং স্বদেশে তাদের নিকটজনদের জীবনে আরও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। পহেলা বৈশাখকে বাংলা দিনপঞ্জীর একটি অত্যন্ত আবেগঘন দিবস হিসাবে বর্ণনা করেন। রাষ্ট্রদূত কাদের আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দূতাবাসসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে আমরা বহির্বিশ্বে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারব। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শত্রুরা কখনো দৈত্য দানবের ন্যায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। রাষ্ট্রদূত পত্নী মিসেস রিফাত সুলতানা আকরাম দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল শিল্পী ও কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং বিদেশি নাগরিক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানের গ্র্যান্ড রেপিডস-এর আফা ক্রিশ্চিয়ান স্কুলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। বাঙালি সাংস্কৃতি ও কৃষ্টিতে উজ্জীবিত হয়ে তারা ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন, রং বেরং-এর প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এতে তিন শতাধিক বাংলাদেশি পরিবার অংশ নেয়। বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা ও উত্সবমুখর পরিবেশে ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে রবিবার বাংলা নববর্ষ ১৪২০ উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খাদ্য, হস্তশিল্প ও পুস্তক প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে হাইকমিশনার বাংলাদেশের জনগণের জীবনে বাংলা নববর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইসলামাবাদে বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিক, পাকিস্তানের সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইসলামাবাদ ও লাহোরে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে চ্যান্সারি প্রাঙ্গণ বর্ণাঢ্য ব্যানার, বেলুন ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়। খাদ্য ও হস্তশিল্প সামগ্রীর স্টলও এতে স্থান পায়। নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহ্যপূর্ণ যাত্রা মঞ্চস্থ হয়। হাইকমিশনের কর্মচারিবৃন্দ এতে অভিনয় করেন। উপ-হাইকমিশনার যাত্রার পাণ্ডুলিপি রচনা ও পরিচালনা করেন। সৌখিন অভিনেতাদের মঞ্চস্থ যাত্রা দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। ফ্রান্সে প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয় প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে। যুবক যুবতী , তরুণ তরুণী,আবাল বৃদ্ধ বনিতার উপস্থিতিতে কালচার প্লাসের বৈশাখী মেলা রূপ নেয় মহাসমাবেশের মত। তরুণীদের হলুদ মাখা শাড়ি ,শিশু-কিশোরদের নববর্ষের আলপনা আঁকা রং বেরং-এর শার্ট, টি-শার্ট এবং তরুণদের মাথায় বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার বেইজ দেখে মনে হয় প্যারিসের বুকে এ এক ছোট্ট বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কালচার প্লাস প্যারিসের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শরীফ আল মোমিনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সম্পাদক এমদাদুল হক স্বপন-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, কালচার প্লাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কাজী এনায়েতউল্লাহ, লিনা খান, মনির কাদের, আব্দুল খালিক,শহীদুল আলম মানিক, টি এম রেজা, হেনু মিয়া, হাসনাত, ফ্রান্স বাংলা প্রেসক্লাব আহবায়ক ফারুক নেওয়াজ খান, সদস্য সচিব দেবেশ বড়ুয়া, আবু তাহির, রানা চৌধরী, আলী জাফর রেজোয়ান জুয়েল, খালেদ বিন রহমান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মিজানুর রহমান লাভলু প্রমুখ।