যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি ও সারাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয়ে বাংলা নববর্ষে পাঁচটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সারাদেশে প্রচার সংযোগ, ২৭ এপ্রিল সারাদেশের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, ২৯ এপ্রিল বেলা ১১টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে গণ অবস্থান, মহান মে দিবসে প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে ‘শ্রমিক মহাসমাবেশ’ ও ৪ মে বিকাল ৪টায় সংসদ অধিবেশন চলার সময় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন।
পহেলা বৈশাখে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মহাসমাবেশে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। এর আগে সকাল ৬টায় গণজাগরণ মঞ্চ রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে পাঁচটা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত তিন মিনিট হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে হাতে হাত বেঁধে সমপ্রীতির বন্ধন রচনা করেন তরুণরা। আর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মঙ্গলপ্রদীপ ও মোমবাতি তুলে ধরে সব অপশক্তির বিনাশে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আন্দোলনরত তরুণ-জনতা। সমবেত জনতা গেয়ে ওঠেন ‘আগুনের পরশমণি’ গানটি।
পহেলা বৈশাখের মহাসমাবেশে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং উত্সব প্রবণ। আবার এ জনগণই সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বিপুল সাহসে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলার তারুণ্য জেগে উঠেছে। এ জাগরণকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে সর্বস্তরে।
ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, আমাদের প্রতিটি চোখ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশের এক বিনম্র ক্যানভাস। আমাদের প্রেরণার সুর, আমাদের প্রাণের জাতীয় সঙ্গীত; আমাদের হূদয়কাব্যের উজ্জ্বল উপমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের শহীদ মিনার আমাদের কংক্রিটের কোকিল নিরন্তর শোনায় প্রাণিত হবার গান। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই আমাদের সকল কিছুর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ন, সকল শুভবোধের সূচনা। এই বোধ, এই মননকে হূদয়ে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো, এগিয়ে যাবো ধ্রুব সূর্যের দিকে। আমাদের মেরে ঠেকানো যাবে কি গণজোয়ারের ঢেউ? উত্তর দেবে সময়। গণজাগরণ মঞ্চ সকল অপশক্তিকে উদ্ধত স্বরে জানিয়ে দিতে চায়- সময়ের চেয়ে বড় কোনো শিক্ষক নেই।
গ্রেফতারকৃত ব্লগারদের মুক্তি দাবি করে ইমরান বলেন, আমাদের সংবিধান বাংলার মানুষকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যখন স্বাধীন মত প্রকাশের দায়ে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ব্লগারদের, তখন প্রশ্ন জাগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি আসলেই বাস্তবায়ন হয়েছে?
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইমরান এইচ সরকার বলেন, আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে। ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল নববর্ষ উপলক্ষে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে বিশ্বের সকল বার্তাজীবী এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতি মুক্তাঞ্চল সফরের আহ্বান জানান তিনি। গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা মারুফ রসুলের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. অজয় রায়, নাসিমুন আরা হক, কানিজ আকলিমা সুলতানা, সংগীতা ইমাম।
