গতকাল সোমবার ইরাকে বিভিন্ন শহরে বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত ও আরো দুইশতাধিক লোক আহত হয়েছে। বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তল্লাশী চৌকিসহ ইরাক জুড়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর রয়টার্স ও এএফপির।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে সিরিজ হামলায় হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে। আগামী ২০ এপ্রিল ইরাকে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন। এর কয়েকদিন আগে বোমা হামলা চালানো হলো। রাজধানী বাগদাদ, উত্তরাঞ্চলীয় গোলযোগপূর্ণ নগরী কিরকুক ও তুজ খুরমাতো, মধ্যাঞ্চলীয় নগরী সামারা এবং বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত হিলা ও নাসিরিয়ায় ২০টি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
কড়া নিরাপত্ত বেষ্টনির মধ্যে থাকা বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা বিরল। এখানে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়। পুলিশ জানয়, দুটি গাড়ি বাগদাদ বিমান বন্দরের প্রবেশ পথের কাছে আসতে সমর্থ হয়, গাড়ি দুটি সেখানেই রেখে চালকরা পালিয়ে যায়। নিয়মিত তল্লাশীর দায়িত্বপালনের সময় পরপর দুটি গাড়িই বিস্ফোরিত হয়। এতে দুজন ভ্রমণকারী নিহত হয়।
সবেচে ভয়াবহ হামলাটি হয়েছে কিরকুকে। এখানে একসঙ্গে ছয়টি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নয়জন নিহত হয়। বাগদাদ থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তরে তুজ খুরমাতো শহরে টহলরত পুলিশকে লক্ষ্য করে চারটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ৫ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়। বাগদাদের ৫০ কিলোমিটার উত্তরে তারমিয়াহ শহরে বন্দুকধারীরা দূরলক্ষ্যভেদী রাইফেল ও পিস্তলের গুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সকালের ব্যস্ত সময়ে এই হামলা চালানো হয়। ইতোমধ্যে ১৪ প্রার্থী নিহত হয়েছেন। ১৮টি প্রদেশের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ২০ এপ্রিল নির্বাচন হবে।
রাজধানীর উত্তরে অবস্থিত বাকুবায়ও রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও রাজধানীর কাছে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তাত্ক্ষণিকভাবে কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার না করলেও আল-কায়েদা সংশ্লি¬ষ্ট জঙ্গিরা দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করা জন্য প্রায়ই সরকারি কর্মকর্তা ও বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
