গ্রন্থাগার মানেই জ্ঞানপিপাসুদের কাছে একটি মহা মিলনের স্থান। যেখানে তারা খুঁজে পায় আত্মার খাবার। পূর্ণ হয় মনের সব আকুতি। কথায় আছে-বই এমন বন্ধু যে কখনো রাগ বা দুঃখ পায় না। তার ভালবাসার কোনো শেষ নেই। সে অন্যকে শুধু কাছেই টানতে জানে। তার মাঝে নেই কোনো স্বার্থপরতা। আর এই বইয়ের ভান্ডার হলো গ্রন্থাগার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সপ্তাহে সাত দিনেই খোলা রাখা হয়। শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করে থাকেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে গ্রন্থাগার। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে এখানে পড়াশুনা করতে পারেন। কিন্তু সারা দেশে লাগাতার হরতালের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পাশাপাশি বন্ধ থাকছে গ্রন্থাগারও। এ কারণে শিক্ষার্থীরা এই গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে গিয়ে আর পড়াশুনা করতে পারছে না।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বর এখন সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ভর্তি থাকছে শিক্ষার্থীদের দ্বারা। গ্রন্থাগারের ভিতরে প্রবেশের সুযোগ না থাকলেও বাইরেও চলছে পড়াশুনা। চলছে সামনের দিনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে পড়ার প্রতিযোগিতা। চলছে বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপ করে পড়াশুনা। তবে গ্রন্থাগার চত্বরের পড়াশুনার সাথে ভিতরের পড়াশুনার রূপ হয়েছে ভিন্ন। গ্রন্থাগারের ভিতরে সেল্ফ থেকে বই নিয়ে পড়তে হতো। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের কোনো ব্যবহার করতে পারতো না। কোনো প্রকার গ্রুপ পড়াশুনা করাও যেতো না সেখানে। সেখানে বসার জন্য ছিল চেয়ার ও পড়ার জন্য ছিল টেবিল। কিন্তু বাইরে সেই ব্যবস্থা নেই। ফ্লোরে পত্রিকা বিছিয়ে তার উপর বসেই চলছে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা।
বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার চত্বরে এখন দিনে অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থী একশত ২০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিভাগ বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার পড়াশুনা। গ্রন্থাগার চত্বরে জায়গা পেতে সকাল থেকেই ভীড় জমাতে শুরু করছেন শিক্ষার্থীরা। একটুখানি ফাঁকা স্থান পেলেই তাতে বসে চলছে তাদের পড়াশুনা। গত শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেলো, গ্রন্থাগার চত্বরের একটি স্থানও ফাঁকা নেই-যেখানে গিয়ে একটু বসা যাবে। সবাই বই ও খাতা নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বিভাগের বড় ভাইয়ের কাছে কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে নিচ্ছেন। দেখা গেলো-বিভাগের সেরা শিক্ষার্থীরাও বন্ধুদের পড়াশুনায় সাহায্য করছেন। অনেক শিক্ষার্থী আবার একে অন্যের জানা বিষয়গুলো শেয়ার করছেন বন্ধুদের মাঝে।
গ্রুপস্টাডি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের খালিদ ও তানিয়া সুলতানা কলি (শাকিলা), সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের বুলবুল আহমেদ, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এবিএম ফাহিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সর্বদায় পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে গ্রুপস্টাডির মাধ্যমে অনেক কঠিন বিষয় অল্প সময়ে আয়ত্তে আসে। তাই আমরা নিয়মিত বন্ধুদের নিয়ে পড়াশুনা করছি। এতে করে সব চেয়ে বেশি উপকার হচ্ছে স্যার যখন এ্যাসাইনমেন্ট দেয় তখন। সবাই এক সাথে ওই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়।
