সবজি হিসাবে ব্যবহারের পাশাপাশি ঔষধি গুণসম্পন্ন পাশ্চত্যের অভিজাত বাটন মাশরুমের উপর দীর্ঘ ২ বছর যাবত্ গবেষণা চলছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বাটন মাশরুমের উত্পাদন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে এ গবেষণা চালিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহম্মেদ। এ কাজে আরো সহযোগিতা করেছেন ড. নীরোদ চন্দ্র সরকার এবং একই বিভাগের লেকচারার মো: হাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ একাডেমিক অব সাইন্স ও ইউএসডি -এর অর্থায়নে চলে আসছে এ গবেষণা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিস-এর গবেষণা হিসাবেও মাশরুমকে বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। কারণ অন্যান্য সবজি নিয়ে বিভিন্ন কৃষি গবেষণাগারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও এর বিস্তার লাভ হলেও মাশরুম গবেষণা ও উত্পাদন নিয়ে তেমন আলোড়ন আমাদের দেশে এখনো সৃষ্টি হয়নি। হাতের নাগালে ডিএই এর একটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুমের উপর চলছে গবেষণা। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানই মাঠ পর্যায়ে মাশরুম চাষ করছে না। এর উপর প্রচার-প্রচারণা এবং গবেষণায় প্রভাব না থাকার কারণে কৃষকরা মাশরুম চাষ সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারছেন না। ফলে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে মাশরুম এখনো ব্যঙ্গের ছাতা নামেই পরিচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: হাফিজুর রহমান জানান, মাশরুম চাষের জন্য কৃষকদের শক্ত ট্রেনিং দরকার। কারণ মাশরুম একটি ছত্রাক যার দুই লাখ প্রজাতির মধ্যে খাদ্য হিসাবে ২০ টি প্রজাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে মাশরুম চাষের জন্য কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জোরদার হওয়া উচিত। এছাড়া মাশরুম সম্পর্কে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্যঙ্গের ছাতা ও মাশরুমের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা দরকার। মাশরুম চাষের গুরুত্ব আরো বাড়াতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েস্টার (ঝিনুক) মাশরুম (Pleurotus ostreatus) নিয়ে গবেষণা করেছে শিক্ষার্থী দেবু কুমার ভট্টাচার্য। তিনি জানান, মাশরুম একটি খাদ্য উপযোগী ছত্রাক যা কম খরচে কম জায়গায় রাসায়নিক সার ছাড়াই উত্পাদন করা সম্ভব।
