বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি জায়গা যেখানে একজন শিক্ষার্থীর রয়েছে ভালো কিংবা খারাপ হয়ার সুযোগ, রয়েছে নিজের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। আর এই প্লাটফর্মের উপর থেকেই নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলে দেশ তথা মানবজাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। আমরা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮-০৯ সেশনে ভর্তি হয়েছিলাম। সেশন শুরুর প্রথম দিনে অনেকটা ভয় ভয় কাজ করছিল আমার মনে। ভাবতেছিলাম আমি কি মানিয়ে নিতে পারব আমার নতুন ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের সাথে। ধীরে ধীরে পরিচয় হলো নতুন বন্ধুদের সাথে। কয়েকদিনের মধ্যেই অনেকটা আপন করে নিলাম আমার নতুন বন্ধু ও ক্যাম্পাসকে। আমি প্রথম থেকেই সিরিয়াস ছিলাম পড়াশুনার ব্যাপারে। ক্লাসে পড়া না বুঝলে সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞেস করতাম। একই সাথে পবিপ্রবি ক্যাম্পাস এবং আমরা, কিছু স্মৃতি সুখের, কিছু স্মৃতি দুঃখের।
ক্যাম্পাসের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এর সুষ্ঠু পরিবেশের কথা। লাল কমল, নীল কমল, সালসাবিল লেকের চারপাশে সারি সারি নারিকেল গাছসহ প্রায় সব ধরনের ফল ও ফুলের গাছ রয়েছে ক্যাম্পাসে। একাডেমিক ভবনের সামনে নীল কমল লেকের উপর রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সেতু। এই সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশের কারণেই ক্যাম্পাস আমার মনে অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে। আমার ক্যাম্পাস আমার কাছে স্বর্গের মতো। ছায়ানীড় নির্মল পরিবেশ দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। এখানকার পরিবেশ যেমন সুন্দর, তেমনি পড়াশুনার ব্যবস্থা অত্যন্ত যুগোপযোগী। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কয়েকটি প্রজেক্টের আওতায় চলছে রিসার্চ কার্যক্রম, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আমি দেশ-বিদেশের অসংখ্য রিসার্চ ইন্সিটিউট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান দেখার সুযোগ পেয়েছি। ৭ম সেমিস্টারে থাকাকালীন সার্ক ট্যুরে গিয়ে তাজমহল দেখা ও ৮ম সেমিস্টারে কান্ট্রি এবং কৃষি গ্রামীণ উন্নয়ন ট্যুর রয়েছে। এসব ট্যুর একদিকে যেমন শিক্ষা সহায়ক, অন্যদিকে তেমনি পড়াশুনার আগ্রহ ও উত্সাহ বাড়ায়। দেশের পরিস্থিতি মাঝে মাঝে বিরূপ থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে একটি পরীক্ষাও বন্ধ হয়নি আমার ক্যাম্পাসের। এখানকার শিক্ষকরা আমার অবিভাবক বাবা-মার মতো এবং ক্যাম্পাসের চার বছর সময়ে অনেক সাহায্য করেছেন, বড় কোন সমস্যায় পড়লে তারাই আগে এগিয়ে আসতেন। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তাদের মেধা ও মনন দিয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বোত্তম উপায়ে শিক্ষাদানের জন্য। একাডেমীর প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে রয়েছে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবস্থা, যা শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে এটি সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও হলের সংখ্যা কম ছিল বিধায় অনেকটা কষ্ট করে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে দুটি হলের কাজ নির্মাণাধীন রয়েছে। তাই হলে থাকতে আর কষ্ট হবে না। বন্ধুদের প্রশংসার কথা কিভাবে প্রকাশ করব তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না আজ আমি। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু মিলে গ্রুপ করে পড়াশুনা করতাম। স্মৃতিচারণ করতে গেলে অনেক কথাই মনে পড়ে। পড়াশুনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিকসহ নানান রকমের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতাম। অবসর সময় মাঝে মাঝে মনে পড়ে আমাদের সেশনের বার্ষিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দুবার চ্যাম্পিয়ান হবার কথা। আজ সেই কাঙ্ক্ষিত দিন যেদিনের জন্য আমরা সবাই চার বছর যাবত্ অপেক্ষা করছি। সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আমাদের শেষ ক্লাসের দিনটার কথা। সেদিন সবার চেহারায় একটা বিদায়ের ভাব চলে এসেছিল। অনার্স শেষ করার পর নামের সাথে একটা কৃষিবিদ টাইটেল যোগ হয়েছে। কিন্তু আমি শুধু নামের কৃষিবিদ হতে চাই না, আমি আমার যোগ্যতা দিয়ে যেন দেশের কৃষির উন্নয়ন করতে পারি এটাই আমার সংকল্প।
এমনভাবেই বলছিলেন সদ্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (এজি) অনার্সে ১ম স্থান অর্জন করা মিতু সমাদ্দার। বাবা-মার অনেক আদরের মেয়ে সব সন্তানের মধ্যে। ছোটবেলা থেকে আশা ছিল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন; কিন্তু সৌভাগ্যবশত হয়েছেন কৃষিবিদ। এমন আশাবাদী কৃষিবিদ মিতু সমাদ্দার যেন তার যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে কৃষি তথা দেশের উন্নয়ন করতে পারেন এটাই সকলের প্রত্যাশা।
