[প্রত্যেক বিভাগ হতে কমপক্ষে ১টি প্রশ্নের করে মোট ৫ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। একই প্রশ্নের উত্তরে সাধু-চলিত ভাষা প্রয়োগ করা যাবে না। প্রত্যেকটি প্রশ্নের মান সমান]
বিভাগ : ক (কবিতা)
১. ৭০ বছরের জামশেদ আলম এখন বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ তিনি একা। স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, আর পুত্র, কন্যা, নাতি, নাতনি সবাই একে একে তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে। তারা দেশে ও বিদেশে আলাদাভাবে সুখে জীবনযাপন করলেও তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। আল্লাহর কাছে তাঁর এখন একমাত্র জিজ্ঞাসা ( ‘কেন তাঁকে এখনও ডেকে নিচ্ছেন না।’ জীবনের শেষ দিনটির জন্যে তিনি আকুল হয়ে প্রতীক্ষা করছেন। এ বয়সে এ অকারণ নিঃসঙ্গতার ভার তিনি আর বইতে পারছেন না!
ক. ‘কবর’ কবিতার কবি কে? ১
খ. ‘যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি’- ‘কবর’ কবিতা অবলম্বনে চরণটির তাত্পর্য লেখো। ২
গ.বৃদ্ধ জামশেদের সঙ্গে ‘কবর’ কবিতার বৃদ্ধ দাদুর জীবনের মিল ও অমিলগুলো ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. ‘প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’ এ চিরসত্যটি উদ্দীপক ও ‘কবর’ কবিতা অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
২.
ওপরের চিত্রটি হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতিতে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের
ক. অমিয় চক্রবর্তী কত খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ
করেন? ১
খ. ‘চিরদিন বাংলাদেশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২
গ. উদ্দীপকের চিত্রের সঙ্গে ‘বাংলাদেশ’ কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ৩
ঘ. ‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ অনন্ত অক্ষত মূর্তিমান’ উদ্দীপক ও ‘বাংলাদেশ’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
বিভাগ : খ (গদ্য)
৩. শামসুল চেয়ারম্যানের বদৌলতে নদীর ওপর একটা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল আজ থেকে দু বছর আগে। সাঁকোর নিচেই ছিল ভারতের পাহাড়ি নদী। ছোট্ট নদীটি বর্ষায় বেগবান হয়ে ওঠে। এক বর্ষায় খান সেনাদের ক্যাম্প বেদখলের ফলে জনাপাঁচেক খান সেনা আত্মগোপন করেছিল জঙ্গলের ভেতর। তারপর রাতের অন্ধকারে তারা পালানোর পথ খুঁজছিল। কিন্তু পথ কোথায়? বর্ষার জলে ভরা চারদিক। অনেক খাল, ডোবা পেরিয়ে ভোরবেলা তারা পৌঁছাল সেই বাঁশের সাঁকোর ওপর, আর অমনি সাঁকো ভেঙে পড়ল নদীতে। তিন জন নদীতে ডুবে মরল। বাকি দুজন অনেক চেষ্টা করে তীরে উঠে জনগণের হাতে ধরা পড়ে গণধোলাই খেয়ে মৃত্যুবরণ করল।
ক. ১৬ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কলিমদ্দিকে কোথায় দেখা যায়? ১
খ. কাঠের পুল থেকে কলিমদ্দি দফাদারের পানিতে পড়ে যাওয়ার কারণ কী? ২
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পে বর্ণিত আবহমান গ্রামবাংলার পথঘাটের যে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় তা বর্ণনা করো। ৩
ঘ. ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের আলোকে উদ্দীপকটির তাত্পর্য বিশে¬ষণ করো। ৪
৪. গল্প পড়ার সময় গল্পের চরিত্র বোঝার ক্ষেত্রে সে চরিত্রের সংলাপ ভালোভাবে খেয়াল করতে হয়। কারণ চরিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয় মুখের সংলাপের মাধ্যমে। এরপর দেখতে হবে ঐ চরিত্র সম্পর্কে গল্পের অন্যান্য চরিত্র কী বলছে। এ ছাড়া একটি চরিত্র বিশেষ একটি ঘটনায় কেমন আচরণ করেছে তার মাধ্যমেও চরিত্র সম্পর্কে আমাদের ধারণা হয়। এ ছাড়াও লেখক প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চরিত্রের ভাবনা-চিন্তা এবং অতীত আচরণ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকেন। চরিত্র বোঝার ক্ষেত্রে এ তথ্যগুলো বেশ সহায়ক হয়।
ক. বিলাসীকে বিয়ে করার চেয়েও মৃত্যুঞ্জয়ের বড় পাপ কী ছিল? ১
খ. ‘আমি তার গায়ে হাত দিতে পারি নাই’- উক্তিটির তাত্পর্য কী? ২
গ. ‘চরিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয় তার মুখের সংলাপের মাধ্যমে’- উক্তিটির আলোকে ‘বিলাসী’ চরিত্র ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকে গল্পের চরিত্র বোঝার জন্যে যেসব বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেসবের আলোকে চরিত্র অঙ্কনে ‘বিলাসী’ গল্পের সাফল্য পর্যালোচনা করো।
৫. মানুষের একটি আশা-আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নিজের অনুভূতি, উপলব্ধি অন্যের কাছে প্রকাশ করা। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে, রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা, গান লিখে নিজ হূদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে জগতের সকল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। চায় লক্ষ হূদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এ কাজ তখনই সফল হয়, যখন রঙে-ঢঙে, আকারে-প্রকারে, ভাষায়-সুরে, ছন্দে-ইঙ্গিতে নিখুঁত রূপ বা অনুভূতি অন্যমনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করা যায়। এ কাজ যে পাবে, শিল্পরাজ্যের সেই রাজা, সমাজ ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার।
ক. রোদ্যাঁর একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম উল্লেখ করো। ১
খ. মানুষের দেহমনের সকল ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. প্রবন্ধে বর্ণিত ‘ব্রাহ্মণ-শূদ্রের’ সমানাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের কোন বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়? আলোচনা করো। ৩
ঘ. উপরের অনুচ্ছেদের ‘লক্ষ হূদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
বিভাগ : গ (উপন্যাস)
৬। গরিব বর্গাচাষি ওসমান। বহু কষ্টে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরের জমিতে ফসল ফলায় সে। কিন্তু ফসলের পুরোপুরি অংশ তার প্রাপ্য নয়। ফসলের অর্ধেক সে পায়। এত কষ্টের ফসল সে সবটুকু পায় না কলে তার দুঃখের অন্ত নেই। সে খেতমজুর, খেতের মালিক নয়। খেতের মালিক খেতের কাছে না গিয়েও তাকে নানা কৌশলে ঠকিয়ে ফসলের সিংহভাগ কেড়ে নেন। এই মালিকেরা যেন জোঁকের মতোই- রক্তচোষা। গরিব চাষির রক্ত চুষে এরা ফুলেফেঁপে ওঠে। কিন্তু এ শোষণ দীর্ঘদিন চলতে পারে না। একদিন তারা সংঘবদ্ধ হয়। রুখে দাঁড়ায় শোষক জোতদারদের বিরুদ্ধে।
ক) ‘পদ্মানদীর মাঝি’ কোন ধরনের উপন্যাস ?
খ) “ইলিশের মওসুম ফুরাইলে বিপুল পদ্মা কৃপণ হইয়া যায়”— কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ) ওসমান মিয়ার মানসিকতার সঙ্গে কুবের মাঝির মানসিকতার কতটুকু মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) ‘প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ওসমান ও কুবের শ্রম জীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে।’ এই উক্তির তাত্পর্য বিচার কর।
৭। যশোরের বেতালপাড়ার এলাকার অধিবাসী আমজাদ। এলাকার অধিকাংশ লোক মৃিশল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অভাব-অনটনের কারণে ছেলে-মেয়েকে ভালো ভাবে খেতে দিতে পারে না সে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও স্কুলে পাঠাতে পারে না, তবে আধুনিকতার প্রভাবে মৃিশল্পে কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় আহারে পরিকারেও পরিবর্তন এসে । আজ তারা দুবেলা দুমোঠো খেতে পায়। একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
ক) মিছা কথা কইলাম নাকি রে কুবের?— এ উক্তিটি কার?
খ) “ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে—এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া দুষ্কর।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
গ) আমজাদের পরিবারে স্বস্তির নিঃশ্বাসের কারণ ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসের জেলেদের জীবনে কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) সময়ের পটভূমিতে মৃিশল্পীদের পরিবর্তন আসলেও ‘পদ্মানদীর মাঝি’উপন্যাসের জেলে জীবনে পরিবর্তন দেখা যায় না। —উক্তিটির তাত্পর্য বিচার কর।
