আমার প্রিয় স্কুল

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৯
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সদর দফতরে সবুজ-শ্যামল-ছায়াঘন মনোরম পরিবেশে অবস্থিত দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোমলপ্রাণ শিশু-কিশোরদের চিন্তা ও পরিকল্পনার উন্মেষ ঘটিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ প্রতিষ্ঠান বদ্ধপরিকর। ১৯৭৭ সালের ১ আগস্ট রাইফেলস পাবলিক নামে শুরু হয় এর পথ চলা। ১৯৭৮ সালে এটি স্বীকৃতি পায় মাধ্যমিক স্কুলরূপে, ১৯৮৩ সালে উন্নীত হয় কলেজ পর্যায়ে। উন্নত শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষকদের আন্তরিক যত্ন, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার জন্য এ বিদ্যাপীঠ আজ এক স্বতন্ত্র মর্যাদায় অভিষিক্ত। প্রতিটি মানুষেরই চলার পথে পৌঁছাতে একটা দিকনির্দেশনার প্রয়োজন পড়ে। ঠিক তেমনি আজ আমাদের জীবনে সঠিক গন্তব্যে অগ্রসরের জন্য যারা অকৃপণ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন, তারা আর কেউ নন, আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষকবৃন্দ। একজন আদর্শ শিক্ষকের যতগুলো গুণাবলী থাকে তার সবটাই পেয়েছি তাদের কাছে। তারা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। উচ্চতর ডিগ্রীধারী হলেও তারা শিক্ষকতার মহান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। উপযুক্ত শিক্ষাদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলাই হচ্ছে তাদের জীবনের মহান ব্রত। ভবিষ্যত্ জীবনের উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে আমাদের উন্মোচন ঘটাতে তারা তাদের প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সে চেষ্টা অনেকাংশেই পূরণ হয়েছে। তাদের একান্ত চেষ্টায় বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা রেখে আসছে সাফল্যের সোনালি স্বাক্ষর। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই আমাদের বিদ্যালয় দেশের শ্রেষ্ঠতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এমনকি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে আমার বলে আমার বিশ্বাস। শুধু পাঠ্যপুস্তকই আমাদের পড়ানো হচ্ছে তা নয়, আমাদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও গভীর জ্ঞান অর্জন হচ্ছে এবং সারাবিশ্ব থেকে জ্ঞান অন্বেষণের জন্য ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষে রয়েছে ডিজিটাল বোর্ড, এ বোর্ডটি এদেশের কোন স্কুলে নেই বললেই চলে, যদিও থাকে তবে সেটা খুবই কম। ডিজিটাল বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীরা আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্ঞান ধারণ করছে। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে এখানে রয়েছে চারটি হাউস, প্রতি বছরই হাউসভিত্তিক কাজকর্মের ফলে কোমলমতি শিশু-কিশোররা সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধুলার নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে আসছে। এছাড়া এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক চিন্তাশক্তিকে বৃদ্ধি করতে ও সেই শক্তিতে দেশে -বিদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের সেই মানসিক চিন্তাশক্তি ছাড়া দেশকে ও দেশের মানুষকে উন্নত করার লক্ষ্যে রয়েছে স্কাউটিং, ডিবেটিং ক্লাব, বিজ্ঞান মেলা ইত্যাদি সংগঠনগুলো। প্রতিবছরই এসব সংগঠন থেকে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী নানা ধরনের জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি সারাবিশ্ব তাদের জ্ঞানের আলোকে বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে। তারা এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য সুযোগ পাচ্ছে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায়। এভাবে তারা একদিকে যেমন প্রতিভার আলোকে আলোকিত করতে পারছে তেমনি তারা আলোকিত করছে আমাদের বিদ্যালয়কে, আমাদের দেশকে। আমাদের বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ। তারা এসব সুযোগ পেয়ে আরো পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। এছাড়া আমাদের স্কুলে বাংলা মাধ্যম ছাড়াও রয়েছে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মাননীয় মহাপরিচালক পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ভাইস চেয়ারম্যান। তাদের দক্ষ পরিচালনা ও আঞ্চলিক দিকনির্দেশনায় অব্যাহত রয়েছে প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় পথচলা।