কোনো পরিকল্পনা করে লেখালেখি শুরু করিনি। স্কুলে পড়ার সময় হঠাত্ এক সন্ধ্যায় পূর্ণিমার চাঁদ দেখে ভীষণ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। তারপরই একটি কবিতা লিখেছিলাম। সেটি ষাটের দশকের গোড়ার দিকের কথা। এভাবেই শুরু। আমি তখন ভালো করে পড়তেও শিখিনি। আমার মায়ের মুখে বিষাদ-সিন্ধু পড়া শুনে দারুণভাবে ব্যথিত, আলোড়িত হয়েছিলাম। প্রথম লেখা-একটি কিশোর-কবিতা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল যশোরের একটি পাক্ষিক পত্রিকায়। আমি তখন নবম শ্রেণির ছাত্র। লেখাটি ছাপার অক্ষরে দেখে কী যে ভালো লেগেছিল তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তবে স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী আর পরিচিতজনের কাছে রাতারাতি হিরো বনে গেলাম। সবার কাছে ‘কবি’ হিসেবে পরিচিতি পেলাম।
সত্যি কথা বলতে কী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বড় চাকুরে নয়; কবি জসীম উদদীনের মতো ‘পল্লীকবি’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম: লেখার ক্ষেত্রে তাকে অনুকরণও করতাম বিস্তর। প্রিয় বা পছন্দের লেখাটি এখনো লিখতে পেরেছি বলে মনে হয় না। তবে আমার যতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রকাশিত ছোট্টমণিদের উপন্যাস ম্যাও বাবু ও লিথিমণি বইটি আমার বেশি ভালো লাগে। আর খণ্ডলেখা হিসেবে আমার শিশু-কিশোর উপযোগী গল্পগ্রন্থ গল্পগুলো মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের রহিমনের সাদা খাসি গল্পটি আমার খুব প্রিয়।
স্মৃতি অনেক আছে। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি হলো আমার এবং আমার মেয়ে নাসরীন মুস্তাফার একই বছর (১৪০৫) বঙ্গাব্দ) অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার লাভ- আমি জীবনী শাখায় আর নাসরীন বিজ্ঞান শাখায়। এই স্মৃতিটি আমার আজীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকে।
প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই (শিশু-কিশোরদের উপযোগী): স্বাধীনতা প্রিয় স্বাধীনতা (কবিতাগুচ্ছ), হাজী মুহম্মদ মোহসীন (জীবনী), ম্যাও বাবু ও লিথিমণি (উপন্যাস), কুমড়োর পেটে সাতভাই (রূপকথা), গল্পগুলো মুক্তিযুদ্ধের, ভালোবাসি আকাশটা নীল নীল (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছড়া-কবিতা), আলোর কুসুম (কবিতা), আলোর মানিক (গল্প), আকাশ-পরীর গল্প (রূপকথা), ভূতবাহিনীর কাণ্ড (গল্প), চলে এসো রূপকথার রাজ্যে ইত্যাদি।
পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছি অভিযাত্রিক সাহিত্য সংসদ পুরস্কার (স্বর্ণপদক), ১৯৮২ ও অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ১৪০৫ বঙ্গাব্দে।
