দিনাজপুরে প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা না থাকায় টমেটোর দাম পাচ্ছেন না চাষি

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১২
চলতি মৌসুমে জেলায় টমেটোর বাম্পার ফলন হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর ২ হাজার ৪শ’ ৬ হেক্টর জমিতে চাষ করে উত্পাদিত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টন টমেটো। শহর সংলগ্ন গাবুড়া নদীর তীরে শেকপুরার রাজারামপুরে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মকালীন হাট থেকে টমেটো প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, শরীয়তপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাকযোগে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এই বাজার থেকে টমেটো কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছেন। প্রতিদিন বাজারে আসছে আড়াইশ থেকে তিনশ টন টমেটো। গড়ে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকার টমেটো বেচাকেনা হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। দিনাজপুর কৃষি সমপ্রসারণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের আবহাওয়া গ্রীষ্মকালীন আবাদে অনুকূলে থাকায় টমেটোর ব্যাপক আবাদ এবং ফলন হয়। চলতি বছর প্রতি হেক্টর জমিতে ৩০ থেকে ৪৫ টন টমেটো উত্পাদিত হয়েছে। সাধারণত এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করতে কৃষকদের খরচ হয় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। দাম ভালো থাকলে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ টাকায়। এখন সেই টমেটো ১ থেকে ২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকের উত্পাদন খরচই উঠে আসছে না। অথচ প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা থাকলে এই টমেটো ১০/১২ টাকা প্রতি কেজিতে দর পেত। অনেক কৃষক আবার বাজারে টমেটো আনতেই সাহস পাচ্ছে না। কারণ পরিবহন খরচ দিয়ে টমেটোর কোন মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে অনেকে গরু দিয়ে ক্ষেতেই টমেটো নষ্ট করে ফেলছে। সে হিসেবে এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করে কৃষকদের লাভ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারে হচ্ছে উল্টোটা। আবাদ করে প্রতি একরে ক্ষতি হচ্ছে ২০/৩০ হাজার টাকা। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ মো. ফয়েজ উদ্দিন জানান, দিনাজপুরের জমিতে প্রোভেনসিড, ভিকিমা ও চ্যাম্পিয়ন জাতের টমেটো আবাদ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা প্রোভেনসিড জাতের। এই জাতের টমেটো গাছ থেকে পাড়ার পর ১৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এ কারণে ব্যবসায়ীদের কাছে এই জাতের টমেটোর চাহিদা বেশি থাকায় এর চাষও বেশি হচ্ছে। এছাড়াও চুকা নামের এক জাতের টমেটোর চাহিদাও রয়েছে। এই টমেটো প্রতিমণ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিনাজপুরের শেকপুরা ইউপির ভাটপাড়া গ্রামের টমেটো চাষি আফা উদ্দিন আফা জানান, এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন। ফলন হয়েছে ১ হাজার মণ। গত সপ্তাহে প্রতিমণ টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করে পুঁজি হারাতে বসেছেন। এ বছর নিট তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। টমেটো বাজারের ইজারাদার মমিনুল ইসলাম জানান, সরকার এই টমেটো বাজার ইজারা দিয়ে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছে। টমেটো বাজারের জন্য সরকারিভাবে মাত্র ৫০ শতক জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত জায়গা রয়েছে মাত্র ১৪ শতক। অথচ বাজার বসছে এক কি.মি. এলাকাজুড়ে। তিনি টমেটো বাজারের সুবিধার জন্য স্থায়ীভাবে আরও বেশি পরিমাণ জায়গা বরাদ্দ দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। শেখপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন ডাবলু জানান, এ এলাকায় টমেটো ব্যবহার উপযোগী ছোট ছোট শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের কৃষকের যেমন লাভ বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থান বাড়বে। এজন্য শিল্পে আগ্রহীদের এ অঞ্চলে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।