গত বছর হজ্বযাত্রীদের সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২৮৪টি হজ্ব এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা হয়েছে ১১টি এজেন্সির লাইসেন্স। তাছাড়া ২৭৩টি এজেন্সির বিরুদ্ধে তিরস্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হজ্বযাত্রীরা এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। পরে মন্ত্রণালয় থেকে অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে ধর্ম সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, হজ্ব এজেন্সির লাইসেন্স নেয়ার আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মেনে চলার অঙ্গীকার করা বাধ্যতামূলক। নীতিমালা মেনে চলার নিশ্চয়তা দেয়ার পরই ২৮৪টি এজেন্সিকে লাইসেন্স দেয়া হয়। কিন্তু ১১টি এজেন্সি হজ্বযাত্রীদের সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। গত বছর অনেকে প্রতারিত হয়ে হজ্বব্রত পালন করতে পারেননি।
সূত্র আরো জানায়, ১১টি এজেন্সি সৌদি আরবে হজ্বযাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত বাড়ি নিয়ে তাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। মদিনায় নিয়ে যাওয়া, খাবার এবং হজ্বব্রত পালনের সময় যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা ছিলো তার অধিকাংশই এজেন্সিগুলো মেনে চলেনি। হাজীরা সৌদি আরবে অবস্থানকালে ধর্ম মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
গত বছর হজ্বের সময় তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে ছিলো। এদিকে মন্ত্রণালয় অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানকালে ১১টি এজেন্সির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গতকাল এ ১১টি এজেন্সিকে লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৩৩টি এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। অপরদিকে ১৪০টি এজেন্সিকে তিরস্কার করার পাশাপাশি আগামীতে নীতিমালা পুরোপুরি মেনে সতর্কতার সাথে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।
