সিরাজগঞ্জ শহরে পৃথক ঘটনায় চারটি মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে গত দুইদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় শতাধিক বসতবাড়ি ও দোকানপাট ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিরপুর ও মালসাপাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় ৩০টি বসতবাড়ি ভাংচুর করা হয়। আহত হয় ৩০জন। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ৪০টি বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় এসআই আনোয়ার সাদাদ হোসেন ও আনিছুর রহমান, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি ফেরদৌস হাসান এবং জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের চাঁনসহ ৪০জন আহত হয়। এদের মধ্যে আহত মালসাপাড়ার সেলিম ও এক গর্ভবর্তী নারীর অবস্থা আশংকাজনক। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এদিকে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শহরের ব্যাপারীপাড়া ও শহিদগঞ্জ মহল্লার মধ্যে গতকাল ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় কমপক্ষে ১৫টি বসতবাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০জন আহত হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল এএসপি কাজী এহসানুল কবীর জানান, ওই চার মহল্লায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১জনকে আটক করা হয়েছে।
