এভাবে চলতে থাকলে বিচার বিভাগ ভেঙে পড়বে

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৯
নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা সরকার বাস্তবায়ন না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘এভাবে চলতে থাকলে বিচার বিভাগ ভেঙে পড়বে।’ ইতিপূর্বে আপিল বিভাগ যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না করে সরকারের পক্ষ থেকে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, বেতন-ভাতা বাড়াতে হলে আইন প্রণয়ন করতে হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করে তা করা সম্ভব নয়। সরকারের এ আবেদনের ওপর শুনানিকালে আদালত এ হতাশা ব্যক্ত করেন। আদালত বলে, ‘আপনাদের তিন পৃষ্ঠার আবেদনের সঙ্গে আমাদের বিষয়বস্তুর পার্থক্য আছে। আপনারা এখন হয়তো বলতে পারেন, আমাদের কথা শুনবেন না। জজ সাহেবদের কী করার আছে! তারা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবেন। এখানে তারা আর আসবেন না। সময় চেয়ে যে আবেদন করেছেন তাতে বিষয়টি হিমাগারে চলে যাবে।’ গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদনটি দাখিল করেন। আদালত আগামী রবিবার আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে। গতকাল এটর্নি জেনারেল আবেদন দাখিল করার পর আদালত বলে, ‘যে দায়িত্ব, তার কতটুকু পালন করেছেন তা নিজেদের জিজ্ঞাসা করুন? আমাদের আর কি বলার আছে? এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে বিচার বিভাগ ভেঙে পড়বে।’ আদালত বলে, ‘আপনারা আইন করার কথা বলছেন। ২০০৯ সালেই তো আইন করা আছে। নতুন করে কি আইন করা দরকার?’ জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, অন্যান্য সার্ভিসেরও নানারকম স্বার্থ জড়িত আছে। আদালত বলে, গত ১৪ মার্চ আপনাদের সর্বশেষ দেয়া প্রস্তাবে কিছু সংশোধন করা হয়েছেমাত্র। এতে নিম্ন আদালতের কর্মকর্তাদের সামান্য সুবিধা হবে। আদালত বলে, আমাদের কথা তো বোঝার চেষ্টা করলেন না! আমাদের রায়টা রেখে দিলেন। আদালত আরো বলে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা নিয়ে উচ্চ আদালত একটি রায় দিয়েছে। তারপর আপনারা একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। আমরা এর সামান্য সংশোধন করেছি। তারপরও আপনারা বুঝতে পারলেন না। এরপর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে উদ্দেশ করে আদালত বলে, উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে। সেটা যদি পার্লামেন্টে পরীক্ষা করা হয়, তাহলে কি সর্বোচ্চ আদালতকে অবমূল্যায়ন (আন্ডারমাইন) করা হবে না?। তাহলে সর্বোচ্চ আদালত থেকে লাভ কি? জানা যায়, মাসদার হোসেন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়ে বিচার বিভাগ ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে। পরে কমিশন গঠন করা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কমিশন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে ওই পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়। এটা বাস্তবায়নের জন্য সরকারপক্ষকে সময় দেয়া হয়। সুপারিশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিচারিক ভাতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিত্সা, পোশাক-ভাতাসহ আরো কিছু সুবিধা দেয়ার কথাও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়।