পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার আদালতে দায়েরকৃত মামলার শুনানি চলছে। মাঝে তিন দিন বিরতির পর বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাত থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে এ শুনানি। দেশি-বিদেশি একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য। সূত্রগুলো জানায়া, আগামী ১৯ এপ্রিল শুনানি শেষ হবে। এরপর যে কোনো দিন বিচারক মামলাটির ভবিষ্যত্ সম্পর্কে আদেশ দেবেন।
গত ৮ এপ্রিল টরেন্টো সিটির ডাউন টাউন এলাকায় ওল্ড সিটি হলে অবস্থিত অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিস-এ শুরু হয় পদ্মাসেতু দুর্নীতি মামলার শুনানি। রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) দায়েরকৃত এ মামলায় বিবাদী হিসাবে রয়েছেন কানাডাভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ নির্মাণ উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক দুই কর্মকর্তা। এরা হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ইসমাঈল মোহাম্মদ এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক রমেশ সাহা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পদ্মাসেতু প্রকল্পে নির্মাণ তদারকি পরামর্শকের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তত্কালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিকে ঘুষ লেনদেনের প্রক্রিয়া করছিলেন তারা।
তাদের বিরুদ্ধে কানাডার ‘করাপশন অব ফরেন অফিসিয়াল অ্যাক্ট’-এর অধীনে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ উত্থাপন করেছে। সংবাদ মাধ্যমে এ দুর্নীতির খবর প্রকাশ হবার পর আরসিএমপি ইতিপূর্বে টরেন্টোতে অবস্থিত এসএনসি-লাভালিনের কার্যালয়ে হানা দিয়ে বিভিন্ন রকম নথিপত্র, ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ইত্যাদি জব্দ করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ইসমাঈল মোহাম্মদ ও রমেশ সাহাকে গ্রেফতারও করে। পরবর্তীতে অবশ্য তারা জামিনে মুক্তি পান। এ পর্যায়ে বিচারক ম্যালকম ম্যাকলয়েডের কোর্টে চলমান শুনানিতে কানাডা সরকারের পক্ষে ক্রাউন প্রসিকিউশন এবং বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রথম দিনেই প্রসিকিউশন তথা আরসিএমপির পক্ষ থেকে প্রায় হাজার পৃষ্ঠার দলিলপত্র উপস্থাপন করা হয় কোর্টে। কিন্তু শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালত এ বিষয়ে সব ধরনের সংবাদ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এ কারণে কোর্টে উত্থাপিত দলিল-দস্তাবেজ ও শুনানির বিষয়ে কানাডার মূলধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এখনো পর্যন্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ হয়নি। যদিও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমসমূহের সাংবাদিকরা নিয়মিত কোর্টে উপস্থিত থেকে শুনানির ওপর প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহ করছেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের আদেশের আলোকে তারা এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
