মিলন শুধু একজন অভিনেতাই নন, তিনি একজন দর্শকও। অন্যদের অভিনয়ের মতো দর্শক হয়ে নিজের অভিনয়ও দেখা হয় তার। দর্শক মিলনের কাছে অভিনেতা মিলনের মূল্যায়ন কেমন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যখন আমার অভিনয় দেখি, সব সময়ই মনে হয় আসলে কিছুই হয়নি। স্যাটিসফেকশন লেভেল খুবই কম থাকে। তবে গুটি কয়েক নাটক দেখে মনে হয়েছে যে, আমি বোধহয় আমার জায়গায় টাচ করতে পেরেছি। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই মনে হয়, আমি আরও ভালো করতে পারতাম, পারফর্মেন্সটা আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। এটা সব সময় আমি ফিল করি। টিভিতে যখন আমার নাটক প্রচার হয়, সে সময় অভিনয় নিয়ে আমার পরিবারের কঠোর সমালোচনার মধ্যে পড়ি। অনেক সময় তারা বলেন, এই চরিত্রটা না করলেও হতো, এটা আরও ভালো করা যেত। তাদের এই সমালোচনা আমি পজেটিভলি নিই। তখন আমার মনে হয়, সম্ভব... আরও ভালো করা সম্ভব। আমি আমাদের কাছাকাছি দেশের পারফর্মারদের অভিনয় দেখে ভাবি যে, আমার দ্বারা বোধহয় সম্ভব তাদের কাছাকাছি মানের অভিনয় করা। এই ফিলিংসটা আমার ভেতর কাজ করে সব সময়।’ তারপর একটু দম নিয়ে মিলন আরও বলেন, ‘আমি সব সময় একটা কথা বলি যে, আমি বর্ডার ক্রস করতে চাই। বর্ডার ক্রস করা মানেই আমার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করা। আমি বর্ডার ক্রস করে আমার দেশের নাম বলব সেখানে। তারা বলবে, মিলন ‘কেম ফ্রম বাংলাদেশ, হি ইজ অ্যান অ্যাক্টর’। এটা আমার সারাজীবনের স্বপ্ন। আমি যখন টিভিতে আমার অভিনয় দেখি তখন সব সময়ই নিজের দোষ খোঁজার চেষ্টা করি— কোন জায়গায় আমার ভুল হচ্ছে। আর ভালোলাগার জায়গা তৈরি হলেই বুকের মধ্যে একটা টান অনুভব করি।’ অভিনয়ের দীর্ঘ সময়ে মিলন অভিনয় করেছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ডলস হাইস’, ‘সৈয়দ বাড়ির বউ’, ‘এফডিসি’, ‘যোগফল’, ‘ললিতা’, ‘ত্রাতা’, ‘জলপরী’ প্রভৃতি। সম্প্রতি শেষ করলেন একখণ্ডের নাটক তাহের শিপনের ‘অনুরণন’ ও তৌকীর আহমেদের ‘ছায়াবৃত্ত’। অনেকেই বলেন আপনি নাকি হুমায়ুন ফরীদির যোগ্য উত্তরসূরি? এমন প্রশ্ন করতেই নড়চড়ে বসলেন মিলন। তারপর কিছুটা ধীর কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কখনোই মনে করি না আমি ফরীদি ভাইয়ের যোগ্য উত্তরসূরি হতে পেরেছি। তবে আমার চেষ্টা আছে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হিসেবে দাঁড় করাবার। আমি এখন সে পথেই হাঁটছি। আমি নাকি হুমায়ুন ফরীদির উত্তরসূরি! এই কথাটি যখন দর্শকদের মুখে শুনি তখন ভালোই লাগে। আমি মনে করি এটা আমার অভিনয় জীবনে প্রাপ্ত সেরা কমপ্লিমেন্ট।’ মিলন শুধু মঞ্চ বা টিভি নাটকেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। চলচ্চিত্রের বড় ক্যানভাসেও তিনি তার অভিনয় দক্ষতা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে মিডিয়ায় পথচলার শুরু থেকেই প্রতিবন্ধকতার শিকার ছিলেন ববি। কাজ করেছেন নিজের চেষ্টায়। উঠে এসেছেন আত্মবিশ্বাসের ডানায় ভর করে। বাইরে থেকে নয়, ঘরের ভেতর থেকেই চাপ ছিল মিডিয়ায় কাজ করা নিয়ে। পরিবারের বাধা ডিঙিয়ে মিডিয়ার প্রতিযোগিতা ঠেলে তবেই তাকে ‘খোঁজ :দ্য সার্চ’-এর সাফল্য পর্যন্ত আসতে হয়েছে। আর প্রথম প্রচেষ্টায় যখন সফলতা ধরা দিয়েছে তখন চলচ্চিত্রের আঙিনাতেই নিজের স্থায়ী আকাশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন ববি। ‘খোঁজ :দ্য সার্চ’-এর রিলিজের পর অনেক নির্মাতার অফার তার ইচ্ছে পূরণের সুযোগ করে দিলেও, গড়পড়তা কাজ করার পক্ষপাতি নন ববি। তার কথায়, ‘আমি সব সময়ই চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য উদগ্রিব ছিলাম। কিন্তু এফডিসিতে কাজের ব্যাপারে মনের সায় পাচ্ছিলাম না। ছবির ধরন নিয়ে আমার আপত্তি ছিল। গতানুগতিক ছবির অতি নাটকীয়তা পরিহার করতে চাচ্ছিলাম। অফার যে কয়টি এসেছে তাতে কাজ করতে পারিনি এ কারণেই।’ ববি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করলেও ‘খোঁজ :দ্য সার্চ’ মুক্তির পর তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন নাটক ও মডেলিংয়ে। সম্প্রতি ইমনের সাথে জুটি হয়ে ববি এই প্রথমবারের মতো একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করেছেন। নতুন গেটআপে নির্মিত বোটানিক এ্যারোমা ডে ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করেন তারা। মিলন ও ববি দুজনেই ছোটপর্দায় কাজ করলেও এবারই তারা বড়পর্দায় অভিনয় করলেন একসঙ্গে। ইফতেখার চৌধুরীর কাহিনী, চিত্রনাট্য, চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনায় নির্মিত এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন কাজী মারুফ, কাজী হায়াত্, প্রবীর মিত্র, শিবা শানু প্রমুখ। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সারা দেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। গল্পে দেখা যাবে, ববি অর্থাত্ সোহানা একজন বার ড্যান্সার। বার থেকে যে টাকা পায়, তাই দিয়ে ববি তার বাবার চিকিত্সার খরচ ও সংসার চালায়। তবে ববির স্বপ্ন অনেক বড় গায়িকা হওয়া। একদিন বারে গানের সাথে নাচতে দেখে সোহানা অর্থাত্ ববিকে পছন্দ করে অন্ধকার জগতের মানুষ মিলন বা আসলাম। কিন্তু ববির কোনোভাবেই পছন্দ হয় না মিলনকে। কিন্তু মিলনও নাছোড়বান্দা, একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে ববিকে পাওয়ার জন্য। সিনেমায় দেখা যায় ববির বাবাকে (কাজী হায়াত্) মিলন একসময় আটকে রাখে এবং ববিকে বাধ্য করে তার সাথে থাকতে। সে দেশে না থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক গডফাদার সিজার ববিকে তুলে নিয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল মিলনের মনে। আর মিলেনেরও ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। ববিও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টারত সব সময়। তাই মিলন খোঁজে একজন সাহসী, বিশ্বস্ত ও লড়াকু দেহরক্ষী। এবার সিনেমার পর্দায় দেহরক্ষী হিসেবে দেখা মেলে অ্যাকশন হিরো মারুফের অর্থাত্ তীব্র। মারুফ জীবনবাজি রেখে হলেও দেহরক্ষীর কাজ করে আসছে। দেখা যায়, মিলন ও মারুফ ছোটবেলার বন্ধু। তো মিলন ববিকে মারুফের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যায় বিদেশে। এরপর ঘটে মজার সব ঘটনা। ববি যেন বাইরের (শিবা) হামলার শিকার না হয় সেদিকে মারুফ সতর্ক দৃষ্টি রাখে এবং একবার হামলার শিকার হলে ববিসহ বাড়ির সকলকে মারুফ আলাদা একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। আর নতুন বাড়িতে ঘটে অন্য রকম সব ঘটনা। ববিকে পাহারা দেওয়ার জন্য পুরো বাড়ি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসে চতুর দেহরক্ষী মারুফ। একসময় ববির পরিচর্যাকারী মহিলা ববিকে মারুফের সাথে সখ্য গড়ে তুলে মিলনের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পরামর্শ দেয়। ধীরে ধীরে ববি ও মারুফের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নেয়। এমন সময় দেশে ফেরে মিলন। ঘটনা আরও সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। একদিকে ববিকে চায় মিলন, অন্যদিকে মারুফ ভালোবাসে ববিকে! ববি কার, কী হয় এর পরিণতি? বাকিটুকু জানতে হলে গিয়ে ছবি দেখা উচিত নয় কি? এই ছবি প্রসঙ্গে মিলন বলেন, ‘সবাইকে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। তারপর দর্শকেরাই মন্তব্য করবেন। আমার প্রথম ছবি ‘হাজার বছর ধরে’। এ ছাড়া আরও চারটি ছবিতে অভিনয় করেছি। তবে যে কয়টি ছবিতে কাজ করেছি, সেগুলো থেকে ‘দেহরক্ষী’ একেবারেই আলাদা।’ ববির ভাষ্যে, ‘মিলন ভাইয়ের সঙ্গে জুটি হয়ে গত বছর ‘মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। বড়পর্দায় আমি প্রথম অভিনয় করি ‘খোঁজ :দ্য সার্চ’ ছবিতে। ‘দেহরক্ষী’ আমার দ্বিতীয় ছবি। এই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ।’ রোমান্টিক অ্যাকশনধর্মী এই ছবিতে দর্শকরা দেখতে পাবেন ভালোবাসার এক নতুন গল্প।
