তারকাগল্প

মায়ারবাঁধনে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৪
অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন তিনি। আর তা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তার ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে—এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।’ মাঝে বিয়ে ও মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে ছিলেন বাঁধন। এখন আবার এ মাধ্যমে তার নিয়মিত পথচলা শুরু হয়েছে। সময়ের বিবর্তনে কাজ নিয়ে এখন নতুন নতুন ভাবনার ডালপালা প্রসারিত হচ্ছে তার মনে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমার কাজ নিয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। আর আমি এখন তাই করছি। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে আমি আমার চরিত্রে কোনো রিপিটেশন চাই না। এখন একটি স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর দেখি সেখানে নিজের অভিনয়ের কতটা সুযোগ রয়েছে। এখন আমি আসলে একটু ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রই খুঁজি। এই সময়ে এসে গতানুগতিক কাজ করতে কোনো ইচ্ছেই আর করে না। আমার মনে হয়, যারা আমার অভিনয় পছন্দ করেন, তারাও নিশ্চয় চান, আমি নতুন নতুন চরিত্রে তাদের সামনে হাজির হই। আমি যেহেতু দর্শকদের জন্য কাজ করি, নিজের আনন্দ থেকে কাজ করি—তাই দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টাটা এখন থেকে আরও জোরালো হবে।’ বর্তমানে অভিনয় করছেন কলকাতার অনিন্দিতা দত্ত চৌধুরীর রচনা ও জুয়েল মাহমুদের পরিচালনায় মেগা ধারাবাহিক নাটক ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বাঁধন একটি অভিজাত পরিবারের মেয়ে। অনেকটা অসহায় অবস্থায় মাকে হারায়। বাবার ওপর পড়ে যায় তার দায়িত্ব। বাবা মনে করেন মেয়েকে সুযোগ্য কোনো পাত্রের হাতে তুলে দিতে পারলে তার রক্ষা। বিদেশ ফেরত শুভর হাতে মেয়েকে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বাঁধনের বাবা। অন্যদিকে স্যান্ডি নামের একটি ছেলেকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে বাঁধন। কিন্তু স্যান্ডি বেকার যুবক হওয়ায় বাবা তার কাছে বিয়ে দিতে রাজি হন না। এভাবেই গল্পটি এগোতে থাকে। বাঁধন জানালেন, ‘বন্যা নামের একটি মেয়ের জীবনের নানা ঘটনাই এ নাটকের মূল কাহিনী।’ দীর্ঘদিন পর মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘অনেকদিন পর অনেক বড়োসড়ো একটা ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। গল্পটাও ভালো। তা ছাড়া মনে হলো মাঝখানে যেহেতু অনেকদিন বিরতিতে ছিলাম, তাই এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটি দিয়ে দর্শকদের আবার কাছে যেতে চাই। নিয়মিত হতে চাই নাটকে।’ সম্প্রতি তিনি অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞাপনের কাজও করেছেন। বাঁধন অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় ‘চৈতা পাগল’, রোজিনার ‘মেয়েটি ঢাকায় যাচ্ছে’, রাজিবুল ইসলাম রাজীবের ‘অগ্নিরথ’, আলভী আহমেদের ‘এয়ারকম’, আরিফ খানের ‘ফুল চাঁদ অমাবস্যা’ ইত্যাদি। কাজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সময়ের ব্যাপারে তার সচেতনতাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নাটকের কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে এলে তখন কাজটা নিয়ে স্বপ্ন কেমন থাকে জানতে চাইলে বাঁধন বলেন, ‘নতুন কাজ হাতে এলে অবশ্যই তা নিয়ে একটা স্বপ্ন তৈরি হয়। তবে আমাদের দেশে মিডিয়ায় নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। তারপরও চরিত্র নিয়ে ভাবি। শুটিংয়ের সময় চরিত্রটা নিজের মধ্যে লালন করে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।’ কাজ নিয়ে স্বপ্ন পূরণ না হলে তা কীভাবে মেনে নেন? জবাবে তিনি মৃদু হেসে বলেন, ‘সব কাজেই যে অতৃপ্তি থাকে তা নয়। কিছু কিছু নাটকে কাজ করে আত্মতৃপ্তি হয়েছে। কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি বুঝতে পারি যে এখানে আত্মতৃপ্তির জায়গা নেই, তখন ওভারঅল কাজ করে চলে আসি। আর অতৃপ্তির জায়গাটা আমার কিছুটা বেশি, কারণ কাজ নিয়ে আমার স্বপ্নের জায়গাটা অন্য রকম। যে রকম স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে চাই, তা হয়তো নানা কারণে পারি না।’ অভিনয় না মডেলিং কোনটি বেশি ভালো লাগে? উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আমি প্রতিটি এরিনাতে কাজ করে আনন্দ পাই। মডেলিংয়ে অল্প সময়ে দর্শকের কাছে যাওয়া যায়। আর অভিনয় হলো আমার ভালো লাগার জায়গা। অভিনয়ের ক্ষেত্রটি হলো—একটি পূর্ণ প্যাকেজ। এখানে সবকিছু জানতে হয়। তাই অভিনয়টা বেশি ভালো লাগে।’ আপনি তো অনেক দিন থেকে মিডিয়ায় কাজ করছেন। সময়ের সাথে সাথে ভাবনার বদল হয়। বর্তমানে কাজ নিয়ে আপনার ভাবনাটা কেমন? বাঁধন স্বভাবসুলভ সুন্দর একটি হাসি উপহার দিয়ে বলেন, ‘ভাবনার অবশ্যই অনেক চেঞ্জ হয়েছে। প্রথমের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে ভাবনা ও কাজের। প্রথম দিকে পরিচালকদের ওপর পুরোটা নির্ভরশীল ছিলাম। এখন কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। নিজের প্রতি আস্থাও বেড়ে গেছে। কোনো চরিত্র নিয়ে ভাবলে সহজেই তার ভেতরে ঢুকতে পারি এবং সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করি। আপনারা অনেকের সাথেই কাজ করেন।’ একমাত্র কন্যা প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘আমার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আমার মেয়ে। মাতৃত্বের স্বাদ অনেক মধুর। আমার মেয়ে আমাকে ছাড়া কিছুই বোঝে না। মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে আমার বেশ ভালোই লাগে। আমি নিজেই ওর সব প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখি। আমার সব চিন্তা মেয়েকে নিয়েই।’ এই মুহূর্তে মাতৃত্বকালীন ব্যস্ততা কাটিয়ে অভিনয়ে ফেরার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন বাঁধন। তবে জানালেন, অভিনয় কিংবা পেশা নয়, মেয়েই তার কাছে প্রাধান্য পাবে সব সময়।