সাবকনশাসের সদস্যরা
জোহান (ভোকাল ও গিটার)
লুকান (ড্রামস ও সাইড ভোকাল)
নাবিল (কিবোর্ড)
বাপ্পি (বেজগিটার)।
অবচেতনকে অনুবাদ করার প্রত্যয় নিয়ে ব্যান্ড দুনিয়ায় তাদের যাত্রা শুরু হয়। সেই পথচলার বয়স একযুগেরও বেশি। এই দীর্ঘ সময়ে তারা শ্রোতাদের দিয়েছেন দুটি অ্যালবাম। প্রতিদানে শ্রোতারাও দিয়েছেন অকৃপণ ভালোবাসা। আলোচ্য এই ব্যান্ডের নাম সাবকনশাস। তাদের শুরুটা হয়েছিল সেই ১৯৯৬ সালে। দু’ভাই—লুকান ও জোহান। গানের প্রতি দু’জনারই প্রচণ্ড ভালোবাসা। সেই তীব্রতা থেকেই তারা হাতে তুলে নেন গিটার। এরপর দিনরাত বুঁদ হয়ে থাকা গিটারের সুরে। এই সময়টায় চলছিল ব্যান্ডের স্বর্ণযুগ। আর্ক, এলআরবি, ফিডব্যাক, প্রমিথিউসসহ অন্যান্য ব্যান্ডের গানে তখন মাতোয়ারা তরুণ প্রজন্ম। এই উন্মাদনা ছুঁয়ে যায় সেই ভ্রাতৃদ্বয়কেও। তারাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন—একটি ব্যান্ডের। এই স্বপ্নের সারথি হয়ে তাদের সাথে যোগ দেন সুজয়। এ সময় এই ছোট্ট দলটির উপর একটি ডকুমেন্টারি হয়, নাম ‘আওয়ার বয়জ’। এখানেই প্রথম তারা একটি ব্যান্ড হিসেবে পারফর্ম করার সুযোগ পান। এখানেই ‘সাবকনশাস’ নামে তারা নিজেদের তুলে ধরেন। কিন্তু কেন? উত্তরে তারা জানান, ব্যান্ডের একটা নাম চাই, তখন অনেক নামই এসে ভিড় করল সামনে। কিন্তু কোনোটাই ভাবনা ছুঁয়ে যেতে পারছিল না। এরই মাঝে এক পারিবারিক আড্ডা থেকে উঠে আসে ‘সাবকনশাস’ শব্দটি। আলোচনা থেকে তারা জানলেন, অবচেতনই হলো সংগীত ও শিল্পের শিকড়। অবচেতনের পুষ্টি নিয়েই বিকশিত হয় শিল্পের পত্র-পল্লব। আর তাই সাবকনশাস শব্দটিকেই তারা নিজেদের শিরোনাম করে নিলেন। এই নামেই তারা চালিয়ে গেলেন ব্যান্ডের যাবতীয় তত্পরতা। এরপর ২০০০ সালের দিকে তাদের সাথে যোগ দিলেন নাবিল ও শেহরীনা। আর এতেই পূর্ণ অবয়ব পেল সাবকনশাস। নিজেদের যাচাই করে নিতেই নাম লেখালেন বেনসন অ্যান্ড হেজেসের স্টার সার্চ কম্পিটিশন ২০০১-এ। সেবার শিরোপা ছুঁতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল তারা। যার ফলাফল পরবর্তী বছর একই প্রতিযোগিতায় সেরা ব্যান্ডের স্বীকৃতি লাভ। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সাবকনশাসকে। বেনসন অ্যান্ড হেজেসের প্রযোজনায় ২০০২ সালে জি সিরিজ থেকে বেরুলো তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘মাটির দেহ’। লুফে নিল শ্রোতারা। সেই অনুপ্রেরণায় ২০০৪ সালে জি সিরিজ থেকে বেরুলো তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তারার মেলা’। এবারও সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হলো। কিন্তু এরপর স্থবিরতার ইতিহাস। ব্যান্ড দুনিয়ায় থেকে একটু দূরে রইল সাবকনশাসের সদস্যরা। তাদের ফিরে পেতে শ্রোতাদের আট বছর অপেক্ষা করতে হলো। এরই মাঝে ২০০৯ সালে সাবকনশাসের সাথে যুক্ত হলেন জিসান ও অমিত। দুঃখজনকভাবে এ সময় ব্যান্ড ছেড়ে চলে যেতে হলো সুজয় ও শেহরীনকে। ২০১২ সালে আবারও পরিবর্তিত হলো লাইনআপন। ব্যান্ডে যোগ দিলেন বাপ্পি আর চলে গেলেন জিসান ও অমিত। তাই বলে থেমে নেই সাবকনশাস। নতুন লাইনআপে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে। বর্তমানে সাবকনশাস ব্যস্ত আছে তাদের তৃতীয় অ্যালবামের কাজ নিয়ে। এ ছাড়া কনসার্ট, টিভি শোতে নিয়মিত হাজির হচ্ছেন তারা। বাংলা ব্যান্ডের গান সাবকনশাসের এই ব্যস্ততা আরও দীর্ঘ হবে এই আশা আমাদের সবার।
