অটোরিক্সায় বিশ্বভ্রমণ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২৬
বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া অনেক অভিযাত্রীর জন্যই ভীষণ স্বপ্নের মতো একটি বিষয়। কিন্তু বিশ্বভ্রমণের এমন কোনো আয়োজনেই যদি কাউকে বাহন হিসেবে দেওয়া হয় সিএনজি অটোরিকশা, টেম্পু বা টুকটুক নামে পরিচিত তিন চাকার কোনো বাহন তাহলে অনেক সাহসী অভিযাত্রীও নিঃসন্দেহে প্রমাদ গুনবেন। তবে এশিয়ার বহু দেশেই দারুণ কার্যকর এক বাহন হিসেবে পরিচিত এ ধরনের এক অটোরিক্সাতে সওয়ার হয়েই গেল ক’মাসে গোটা দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছেন নিক গফ ও রিচার্ড সিয়ার্স নামের দুই ব্রিটিশ শিক্ষক। ইতোমধ্যে এই দুই শিক্ষক তাদের সাহসী এই অভিযাত্রায় ২৭টি দেশের ১৭,২০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। চষে বেরিয়েছেন আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আর এখন তারা আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপে আছেন এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশে তাদের বিশ্বভ্রমণের পরবর্তী ধাপগুলো শুরুর অপেক্ষায়। মজার বিষয় হলো, এ ধরনের বাহনে বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার অন্তরায় হিসেবে যেখানে অনেকেই এগুলোকে হালকা ও ভঙ্গুর বাহন বলে মনে করেন সেখানে নিক ও রিচার্ড তাদের বিশ্বভ্রমণে অটোরিকশা নিয়ে সে ধরনের কোনো ঝামেলায় পড়েননি বললেই চলে। যদিও প্যারিসের রাস্তায় একবার চাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া আর আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে অ্যাকসেলারেটর ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মামুলি কিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছিল নিক ও রিচার্ডকে। এ ছাড়া পুরো ভ্রমণের চ্যালেঞ্জিং অংশগুলোর মধ্যে ছিল কেনিয়ার উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিম তানজানিয়ায় প্রায় ১০০০ মাইলের মতো বাজে রাস্তায় থিকথিকে কাদা, বালু আর পাথুরে রাস্তায় অটো চালানো এবং উগান্ডা ও বতসোয়ানায় বন্য হাতির তাড়ার মুখে পড়ার মতো ঘটনা। তবে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাঝেও নিক ও রিচার্ড তাদের এই অটোরিক্সায় বিশ্বভ্রমণ নিয়ে ভীষণ আশাবাদী এবং তাদের বিশ্বাস এরই মাধ্যমে প্রথম কোনো অভিযাত্রীর তিনচাকার অটোরিকশায় বিশ্বভ্রমণের রেকর্ড গড়বেন তারা। এ ছাড়া আলেচিত এই বিশ্বভ্রমণে নিক ও রিচার্ড যে শুধু পর্যটকের মতো দেশে দেশে ঘুরেই বেড়াচ্ছেন তা কিন্তু নয়। বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আধুনিক শিক্ষা প্রসারের বার্তাও।