দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার বেশি জমিতে আলুর ফলন হয়েছে। যা গত বছরের ফলনের তুলনায় ২১ ভাগ বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়। ঐ দপ্তর জানায়, এবার আলুর হেক্টর প্রতি উত্পাদন হয়েছে গড়ে ২৫ টন করে। কিন্তু এরপরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না চাষিরা। হিমাগার না থাকায় উদ্বৃত্ত আলু সংরক্ষণ করতে না পেরে তারা লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এরপরও প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলে ১১টি জেলায় এবার আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৮২ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৪শ ৪ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫ ভাগ বেশি।
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুল করিম জানান, দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণে আলুচাষে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। তুলনামূলক এবার আবহাওয়া আলুচাষের অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র এখন আলু উত্তোলনের ধুম পড়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৫ ভাগ আলু মাঠ থেকে কৃষকরা তুলে এনেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শস্য উত্পাদন বিশেষজ্ঞ রমেন বড়াই জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার হেক্টরপ্রতি ৩/৪ টন করে আলুর ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এবার সঠিক সময় প্রয়োজনীয় মাত্রায় সার প্রয়োগ, কৃষক ও মাঠকর্মীদের সচেতনতাই আলুর বাম্পার ফলনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কৃষিবিদরা জানান, সাধারণত বেলে ও দোআঁশ মাটি আলুচাষের জন্য বেশি উপযোগী। যেসব অঞ্চলে দ্রুত পানি সরে যায় সেসব অঞ্চলেই আলুর ফলন ভাল হয় বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান।
আলুচাষিরা জানান, মৌসুমের প্রথমদিক থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। এবার আলুর রোগ-বালাই তেমন একটা না থাকায় অনেকটা তারা চিন্তামুক্ত ছিলেন। তবে এ অঞ্চলে কোল্ডস্টোরেজ (আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার) না থাকায় প্রতি বছরই আলুর একটা বিশাল অংশ অপচয় হয় এবং কৃষকরা নায্যমূল্য পান না। আলুচাষিরা দীর্ঘদিন যাবত্ এ অঞ্চলের কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। কোল্ডস্টোরেজ থাকলে আলু সংরক্ষণ করার পাশাপাশি তারা বেশি দামে আলু বিক্রি করে লাভবান হতে পারতেন বলে উজিরপুরের আলুচাষি সাকিল আহমেদ জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে তাদের ১১ জেলার মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি আলুর চাষ করা হয়েছে নদীবেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলায়। জেলার ৩ হাজার ৫শ ৭০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। সদর উপজেলার আলুচাষি মনিরুল ইসলাম, নাছিম আহমেদ, হযরত আলী ও মনুু মিয়া জানান, তারা প্রত্যেকে এবার ২৫ একর করে জমিতে আলুর চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের ফসল তোলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আশানুরূপ দাম পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান। বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক আলতাফ হোসেন ও লোকমান ডাকুয়া জানান, এখানে বরাবরই আলুর চাষ ভালো হয়। তবে সংরক্ষণের অভাবে অনেক আলু পচে যায় তাই নায্যমূল্য পাওয়া যায় না। বর্তমানে কৃষকরা প্রতিকেজি আলু পাইকারি বাজারে ৮/১০ টাকায় বিক্রি করছেন।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার সিরাজুল ইসলাম কৃষকের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, কোল্ডস্টোরেজ না থাকাটা দক্ষিণাঞ্চলের আলুচাষিদের জন্য একটা বড় সমস্যা। তাই কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের ব্যাপারটি আমাদের বিবেচনায় আছে। আশা করছি এ ব্যাপারে শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
