এশিয়ায় মার্কিন উপস্থিতির সমালোচনায় চীন

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০২
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক জোট শক্তিশালী করা এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা করেছে চীন। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বার্ষিক এক শ্বেতপত্রে এ সমালোচনা করা হয়। ৪০ পাতার এ শ্বেতপত্রে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে চীন বলেছে,“এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি দেশ সামরিক জোট শক্তিশালী করছে, তারা সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং এতে পরিস্থিতি দিন দিন উত্তেজনাকর হয়ে উঠছে। “এসমস্ত পদক্ষেপ মোটেও সময়োপযোগী নয় এমনকি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও উপযুক্ত নয়”— বলেছেন চীনা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াং ইয়ুজুন। এর মধ্যদিয়ে চীন মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আফগানিস্তান যুদ্ধ শেষের এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে নতুন করে যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বলছে এবং আরো পূর্বের দিকে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে- তাতে চীন অস্বস্তিতে পড়েছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রই সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। তাদের এ নীতিতে বলীয়ান হয়ে উঠছে জাপান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম; যে দেশগুলোর সঙ্গে দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্রসীমা নিয়ে চীনের বিরোধ চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে অস্বস্তিতে পড়েছে চীন। শ্বেতপত্রে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, উদীয়মান শক্তির দেশ হয়েও চীন ‘বহুমুখী ও কঠিন নিরাপত্তা হুমকি’র মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় আমূল পরিবর্তনের কৌশল নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিছুদিন আগে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। এ পরিকল্পনা সম্পর্কে বেইজিং বলছে- চীনকে ঘিরে ফেলতেই এ পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। এর বিপরীতে চীনও তাই তার সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টায় আছে। চীনের পিপলস লিবারেশন সোমবার এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেছে, বৈরী পশ্চিমা বিশ্বকে মোকাবেলায় চীনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।