মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল বুধবার সকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড় ও বজ্রপাতে কমপক্ষে সাতজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। সারাদেশে ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কলারোয়ায় মঙ্গলবার রাতে বজ্রপাতে তিন জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলো আশাশুনি উপজেলার কাপসণ্ডা গ্রামের আমানাত গাজীর ছেলে নাসির উদ্দীন গাজী (২৮), কাকবাসিয়া গ্রামের মৃত নাজিম আলী মোল্যার ছেলে মুনসুর আলী মোল্যা (৫০) এবং কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি এলাকার আজিবর রহমানের মেয়ে সোহানা খাতুন (১৩) ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় , নাসির ও মুনসুর আলী প্রয়োজনীয় কাজে কয়রা উপজেলার আমাদী বাজারে যায় । রাতে বাড়ি ফেরার পথে খাজরা খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা যাত্রীছাউনির মধ্যে আশ্রয় নেয়। এসময় বজ পাতে দুইজন নিহত হয় এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়।
এদিকে খালার বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহানা খাতুন মুরারীকাটি তার বাড়ির পাশে এসে বজ্রপাতে নিহত হয়।
লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা: লালমোহনে ঘূর্ণিঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত ও ঘরের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টায় ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের তাহেরা বেগম (৬৫) ঘরের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। এ সময় ঐ ঘরে থাকা বৃদ্ধার ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিসহ আরো ৫ জন আহত হয়। এছাড়া ঐ ইউনিয়নে এবং পার্শ্ববর্তী লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে কমপক্ষে ৫০টি ঘর, ৩টি মাছ ধরা নৌকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কাকনাচকে গতকাল বুধবার সকালে বজ্রপাতে মো. আকবর আলী (৪৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। তিনি আগকলিয়া গ্রামের জুরান আলীর ছেলে।
নিহতের চাচাতো ভাই মাসুদ রানা জানান, সকালে আকবর বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই চকে নিজ সেচযন্ত্র চালু করতে যান। হঠাত্ ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির এলে তিনি সেচযন্ত্র ঘরেই আশ্রয় নেন। সাড়ে আটটার দিকে ঘরের ওপর বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা তার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। আকবর বৈবাহিক জীবনে এক ছেলে এক মেয়ের জনক।
নাটোর সংবাদদাতা: নাটোরের বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়নের চণ্ডিপুর গ্রামে বুধবার সকালে বজ পাতে সুজন আলী (২৪) নামে এক ভটভটি চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুজন চণ্ডিপুরের হরফ আলীর ছেলে। বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মমিন আলী জানান, বুধবার সকালে বৃষ্টির সময় সুজন বাড়ির বারান্দায় বসেছিল। এ সময় আকস্মিক বজ পাতে সুজনের সারা শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় চিকিত্সকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে বজ পাতে এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তার নাম ইন্নছ আলী (৪৮)। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বড়কাপন গ্রামে। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে আটটার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে নীলগঞ্জ রেলস্টেশনে যাবার সময় রেজিয়া সামাদ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে আসা মাত্র হঠাত্ বজ পাত হলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
বরিশাল অফিস : বৈশাখের শুরুতেই মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে গেছে বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়। বিকালের ঝড়-বৃষ্টি রাতে ঝড়োহাওয়ায় রূপ নিয়ে বিদ্যুত্ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে তুলেছে, যা ২০ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ সচল করা সম্ভব হয়নি। নগরীসহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলার সিংহভাগ এলাকা এখনো বিদ্যুিবহীন। ঝড়ে দুইশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরের ভ্যাপসা গরমের মাঝেই আকাশে কালোমেঘের ঘনঘটা দেখা দেয়। সন্ধ্যার আগেই শুরু হয় বর্ষণ। প্রচণ্ড গরমের মাঝে বৃষ্টি স্বস্তি এনে দেয় মানুষের মাঝে। কিন্তু সেই বৃষ্টির মাঝেই রাত সাড়ে ৭টায় বাতাসের বেগ বেড়ে তা ঝড়োহাওয়ায় রপ নেয়। এক পর্যায়ে বাড়ী ও গাছ পালা ভেঙ্গে পড়তে থাকে। বিদ্যুতের খুটি উপড়ে বিদুত্ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। রাত পৌনে ৮ টার দিকে পুরো বরিশাল নগরী ও আশে পাশের এলাকা বিদুত্ বিহীন এক ভূতুড়ে নগরীতে রূপ নেয়। রাত ১২টার দিকে নগরীর ১টি ভিআইপি ফিডারে সংযোগ স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ এলাকা ছিল অন্ধকারে। গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত নগরীর নতুন কোন এলাকায় বিদুত্ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুত্ না থাকায় বাসাবাড়ি ও অফিস-আদালতে চরম পানি সংকট দেখা দেয়। মোবাইল টাওয়ারগুলো বিদ্যুিবহীন থাকায় নেটওয়ার্ক জটিলতায় গতকাল কোথাও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বরিশাল বিদ্যুত্ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম জানান, ঝড়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালপালা পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাত ৮টা থেকে তাদের ২১ ফিডারের (সঞ্চালন লাইন) সবকটি বন্ধ ছিল। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২টি ফিডার সচল করা হয়েছে। তবে বাকি ১৯টি ফিডার কখন সচল হবে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি ঐ প্রকৌশলী। ঝড়ে নগরীর পলাশপুর, সাগরদী, কাশিপুর, রহমতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি:শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ১৩টি গ্রামে ঝড়ে দুইশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে এক ঘণ্টা স্থায়ী এ ঝড়ে গ্রামগুলোর ফসল ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হঠাত্ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এসময় গোসাইরহাট উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৩টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হলো কুচাইপট্টি ইউনিয়নের সাতপার, চরজানপুর, আলওয়ালপুর ইউনিয়নের ফজলুল হক হাওলাদারকান্দি, মফিজ মাস্টারকান্দি, উত্তর কোদালপুর, রশিদ হাওলাদারকান্দি, ছাদিম আলী বেপারিকান্দি এবং কোদালপুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া, বকাউলকান্দি, মানপাড়া, মোল্যাপাড়া ও দেওয়ানপাড়া।
নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, দোকানপাট, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরক্লার্কের চর বাইজিদ, পশ্চিম উড়িরচর ও সোলায়মান বাজার এবং পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরনোমান ও লক্ষ্মীমৌজা গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডব ঘটে। ঝড়ের ক্ষতির খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা চেয়্যারম্যান অধ্যাপক খায়রুল আনম সেলিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মেহেদী ঘটনাস্থলে যান। তাত্ক্ষণিক তারা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ দেড় লাখ টাকা বিতরণ করেন এবং ৫০ বান্ডিল টিন ও ৫ টন চাল বরাদ্দ দেন।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:পটুয়াখালী জেলার উপর দিয়ে মঙ্গলবার রাতে ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে বিধ্বস্ত হয় বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছপালা। বিঘ্নিত হয় বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা। তবে জেলার কোথাও কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঝড়ের সময় জেলার সর্বত্র বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পল্লীবিদ্যুত্ অফিস জানায়, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কে ও গলাচিপায় ঝড়ে তাদের ১০টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। কলাপাড়া উপজেলায় গতকাল বুধবার সকালে বিদ্যুত্ সরবরাহ চালু করা গেলেও গলাচিপায় দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুত্ বন্ধ ছিল।
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা:নড়াইলের লোহাগড়ায় মৌসুমের শুরুতে ঝড়-বৃষ্টির সাথে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ২৪ ঘন্টা ধরে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দমকা হাওয়া আর বিদ্যুতের ঝলকানির মধ্যে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। ৫০ মিনিট ধরে বৃষ্টির সাথে পড়তে থাকে ছোট-বড় শিলাখণ্ড। নজীরবিহীন শিলা বৃষ্টিতে ইরি-বোরো, আম, কাঁঠাল, তরমুজ, বাঙ্গী, মরিচ, কুমড়া, উচ্ছে, পটল, কুশি, লাউ, খিরাই, টমেটোসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা: মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ফরিদপুরের মধুখালীতে হঠাত্ বয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টি। টানা প্রচণ্ড গরমের পর এই ঝড়-বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি এলেও ঝড়ে অনেক গাছপালা বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর উপড়ে পড়ে উপজেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুত্ অফিসের কর্মকর্তাদের অনেক চেষ্টার পর বিকালে তা স্বাভাবিক হয়। এছাড়া শিলাবৃষ্টির কারণে আম, লিচু ও কাঁঠালের বেশ ক্ষতি হয়েছে।
দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: দুমকি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে বহু বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লণ্ডভণ্ড হয়েছে। দুমকি গ্রামের রফিকুল ইসলাম মাস্টারের ঘরের টিন উড়িয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। অন্যদিকে এলএম ইউনাইটেড মহিলা কলেজের অফিস রুম, আঠারগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা, উত্তর মুরাদিয়া কেরাতুল নুরানি মাদ্রাসা ও সংলগ্ন মসজিদের একাংশ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বাড়িঘর, গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অর্ধশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উড়ে গেছে বিদ্যালয়ের টিনের চাল। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ এলাকা রয়েছে বিদ্যুিবহীন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠ্যাত্ করে উপজেলায় কালবৈশাখী আঘাত হানে। ঝড়ে উপজেলার ডহর মশিয়াটি গ্রামের দিলীপ রায়, শংকর কুমার, সঞ্জিব রায়, অসিত কুমার, শিবু প্রসাদ, সুভাষ চন্দ্র, অশুতোষ বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র, বিধান চন্দ্র, বিষ্ণু পদ, সুফল রায় ও নওয়াপাড়া পাঁচকবর এলাকার নূর বাবুর বসতবাড়ি উড়ে গেছে। নওয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন এলাকায় ৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে এবং গাছপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ায় বিদ্যুিবহীন রয়েছে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা।
