রাজনৈতিক অস্থিরতায় পোশাক শিল্পের নতুন বাজার হাতছাড়া

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
চীন ও কম্বোডিয়াসহ প্রতিযোগী দেশগুলোতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি পোশাক ক্রেতারা যখন বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন ঠিক তখনই দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। অস্থিরতা এতটাই তীব্র হয়ে উঠছে যে, বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনার পরিকল্পনা করেও তা বাদ দিচ্ছেন ক্রেতারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এত অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগ নেই। তার চেয়ে চীন, কম্বোডিয়া আর ভিয়েতনামই ভালো। ব্রাজিলের একটি বড় পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এমএ রি এমনই একজন পোশাক ক্রেতা। সমপ্রতি তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন পোশাকের অর্ডার দিতে। তাকে হতাশ করেছে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। পোশাক পছন্দ হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করবেন না বলে জানিয়েছেন। ই-মেইলে পাঠানো এক বার্তায় তিনি একথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, যেহেতু বাংলাদেশ আমাদের জন্য নতুন বাজার, তাই এখানে স্থিতিশীলতা আর ঝুঁকির বিষয়ে বেশ সতর্ক থাকতে হবে। জানা গেছে, বিশ্বে পোশাক খাতের বাজার প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের। এরমধ্যে চীনই সবচেয়ে বেশি পোশাক রফতানি করে। বিদেশি পোশাক ক্রেতারা বলছেন, আগামীতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে হয়তো বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়া হতে পারে। তবে আগামীতে অস্থিরতা কমার পরিবর্তে বাড়ার আশঙ্কাই তারা বেশি করছেন। ফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশে যে নেতিবাচক ধারাণা তৈরি হচ্ছে এতে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও ভারত পোশাক খাতের নতুন বাজার। এ দেশগুলো যে পোশাক আমদানি করছে তা বেশিরভাগই দখল করে নিয়েছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই বাংলাদেশ এ বাজার দখল করতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির পরিমাণ প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ২৭ শতাংশ। অথচ গত বছর নতুন বাজারে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৭ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি বলেন, পোশাকের নতুন বাজার ধরার ক্ষেত্রে আমরা ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে সামপ্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশিরা অর্ডার দিতে চাইছে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ না হলে তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। অর্থনীতির স্বার্থেই এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধীদলকে এগিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পোশাক খাত। এ খাতের রফতানি আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অর্থনীতিতে বহুমুখী ভূমিকা রাখছে। দেশের মোট রফতানি আয়ে পোশাক খাতের অবদান প্রায় ৭৯ ভাগ। তাছাড়া দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশেষ করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক খাত বাধাগ্রস্ত হলে গোটা অর্থনীতিতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন দিক থেকে তৈরি পোশাক খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ খাত প্রভাবিত হলে গোটা অর্থনীতিই প্রভাবিত হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এভাবে চলতে থাকলে এ খাতটি বাধার মধ্যে পড়বে। উত্পাদন হলেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি বড় রকমের চাপের মধ্যে পড়বে। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বায়াররা (ক্রেতারা) বাংলাদেশে অর্ডার দিতে চাইবেন না।