বিএনপি নেতাদের জামিন প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান ও অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর জামিন আবেদনের ওপর দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী বিএনপির তিন নেতাকে এ মামলায় ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন কেন জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে সরকারের প্রতি রুল জারি করেন। তবে উভয় বিচারকই জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে জামিন দেয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
এদিকে একই বেঞ্চ গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা অপর মামলায় বিএনপির ওই তিন নেতাসহ ১৮ দলীয় জোটের ৬ নেতার জামিন মঞ্জুর করেছে। অপর নেতারা হলেন, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ড্যাব সভাপতি এজেডএম জাহিদ হোসেন ও মো. শাহজাহান।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক মামলায় জাহিদ হোসেন ও মো. শাহজাহানের জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে। বিএনপির তিন নেতার জামিন প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেয়ায় এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে পাঠাবেন।
বিএনপি নেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি দ্বিধাবিভক্তির এই আদেশকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কেন জ্যেষ্ঠ বিচারকের সঙ্গে কনিষ্ঠ বিচারক দ্বিমত পোষণ করেছেন আদেশে তার কোন ব্যাখ্যা নেই। ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্বিমত পোষণ করা যায় না।
গত ৭ এপ্রিল ১৮ দলীয় জোটের এই ৬ নেতা হাইকোর্টে দুটি মামলায় জামিনের জন্য পৃথক ১২টি আবেদন করেন। এর আগে এসব মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়। এতে নেতারা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্টে বিএনপি নেতাদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা আমরা দেখিনি। উচ্চ আদালত সব সময়ই রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলো। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বিচারকাজে উচ্চ আদালতের বিচারকরা সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। দলীয়করণের প্রভাব বিচার বিভাগের উপর পড়েছে।’
