বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন নয়টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত। গতকাল বুধবার রাতে তারা খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে এই বৈঠক করেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিস্তিন, মিসর, কাতার, কুয়েত, ইরাক, লিবিয়া, ওমান ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূতরা বৈঠকে যোগ দেন। খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির আমন্ত্রণে নয়, রাষ্ট্রদূতরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে তার সঙ্গে এই বৈঠক করেছেন। যে কারণে বিষয়টিকে তাত্পর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটককৃতদের বিচার কাজের শেষ পর্যায়ে মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরাও।
বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি গতরাতে ইত্তেফাককে বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতরা নিজেরাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকের সময় নিয়েছেন।’
বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারকাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতরা বেগম জিয়াকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা উদ্বিগ্ন। তারাও বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চান। এই উপলব্ধি থেকেই বিরোধী দলীয় নেতার সাথে তারা সাক্ষাত্ করেছেন। একইভাবে তারা সরকারি দলের সঙ্গেও কথা বলবেন। এছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সংকট সমাধানের উপর তাগিদ দিয়েছেন দশ রাষ্ট্রদূত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারকাজ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে এই বিচারকাজ সম্পন্ন হবে-এমনটি তাদের প্রত্যাশা’।
