দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে তথ্যপ্রযুক্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার এডিশনাল চীফ মেট্রোপলিটন মাজিষ্ট্রেট সহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিকে রিমান্ডে থাকাকালীন সময় মাহমুদুর রহমানের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে আদালতে। মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা এই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে শুনানির এক পর্যায়ে মাহমুদুর রহমান কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে গেলে আইনজীবীরা তার এই দুরবস্থার জন্য সরকার, আদালত ও পুলিশকে দায়ী করে তীব্র হৈচৈ করেন। আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে ম্যাজিষ্ট্রেট এজলাস থেকে খাস কামরায় চলে যান। পরে জিআরও আলতাফ হোসেন আদালতের আদেশ পাঠ করে শোনান। আদেশে মাহমুদুর রহমানকে কারাবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা ও সুচিকিত্সার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে মাহমুদুর রহমানকে ম্যাজিষ্ট্রেট সহিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মাহমুদুর রহমান ছিলেন ক্লান্ত ও বিষণ্ন্ন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিনি হাঁটছিলেন। শুনানিতে এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, রিমান্ড সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা এই আদালত মান্য করেনি। এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, যেদিন তাকে রিমান্ড দেয়া হয় সেদিন তার অবস্থা কেমন ছিলো আজ তার অবস্থা কেমন এই আদালত তার দিকে তাকালেই তা বুঝতে পারবেন। তার উপর সীমাহীন জুলুম নির্যাতন করা হয়েছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক খোরশেদ মিয়া বক্তব্য রাখাকালে মাহমুদুর রহমান দাঁড়ানো অবস্থায় ফ্লোরে বসে পড়েন। এ সময় আদালতে তীব্র হৈচৈ শুরু হয়। আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চেয়ারে বসার অনুমতি দেন ম্যাজিষ্ট্রেট। কিন্তু খোরশেদ আলমের বক্তব্য চলাকালে তীব্র হৈচৈ শুরু হয়। এ সময় কমপক্ষে আরো অর্ধশত আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। হৈচৈয়ের এক পর্যায়ে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ছেড়ে চলে যান।
এদিকে তিন দফা দাবিতে আমৃত্যু অনশনে রয়েছেন আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিন দফা দাবিগুলো হচ্ছে, তার বয়োবৃদ্ধ মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বেআইনীভাবে আমার দেশ পত্রিকার গ্রেপ্তার ১৯ কর্মচারীকে মুক্তি এবং পত্রিকার ছাপাখানায় লাগানো তালা খুলে দেয়া ও পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি প্রদান। গতকাল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মাহমুদুর রহমানকে হাজির করা হলে আইনজীবীরা আদালতকে এ তথ্য জানান। তারা আদালতের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ দাবি পৌঁছে দেয়ার আবেদন করেন। দাবি না মানা পর্যন্ত আমৃত্যু তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন বলে আইনজীবীরা জানান। তিনদিন ধরে মাহমুদুর রহমান অনশনে রয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দেখা করে এ দাবিগুলো পেশ করেন। এ সময় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাংবাদিক নেতা কবি হাসান হাফিজসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের জামিন মঞ্জুর
আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে আমার দেশ পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগে রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে ছয় সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।
