আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেছেন, সংঘাত ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতির পথ পরিহার করে নির্বাচনের আগে আলোচনার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করুন। কারণ আলোচনাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই জাতির একমাত্র প্রত্যাশা।
গতকাল বুধবার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধী দলের প্রতি এ আহবান জানান সৈয়দ আশরাফ। ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে কখনো দাবি আদায় করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি জনসমর্থন হারানোর ভয়ে হরতাল প্রত্যাহার করেছে। যদিও হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু তা এখন মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বার বার হরতাল দিলে জনসমর্থন কমবে এই বাস্তবতা বিরোধী দল বুঝতে সক্ষম হয়েছে। তাই তারা হরতাল দিয়ে জনসমর্থন নষ্ট করতে চান না। এক্ষেত্রে বাস্তবমুখী হওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে—আজকের দিনে এটা আমাদের প্রত্যাশা। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের মানুষ তাদের পছন্দের সরকার নির্বাচিত করবে। অন্য কোনো পন্থায় সরকার নির্বাচিত হবে না।’ এক্ষেত্রে বিরোধী দলকেও একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মুজিবনগর সরকারের তাত্পর্য তুলে ধরে সৈয়দ আশরাফ বলেন, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের মাইলফলক। বাংলাদেশের জন্য মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম। এখান থেকে সবারই অনেক কিছু শেখার রয়েছে কীভাবে মন্ত্রিসভার মাত্র ছয় জন সদস্য মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে একটি জাতিকে স্বাধীন করেছেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর সরকারের যে আউটলাইন হয়েছিল, সেভাবেই সংবিধান রচিত হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময় কাট-ছাঁট করা হলেও সে সংবিধানই আছে। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে টিআইবির দেয়া প্রস্তাব প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তো বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
টিআইবির রূপরেখা প্রস্তাবের পরদিন গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে, সেখানে নির্বাচন কীভাবে হয় সেটা পর্যবেক্ষণ করুন। নতুন নতুন ফর্মুলা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরো জটিল করবে। এটা গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে না। প্রধানমন্ত্রীর কথার পুনরাবৃত্তি করে সৈয়দ আশরাফ গতকাল বলেন, পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলার কোনো মানে হয় না।
