চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফিরে আসতে শুরু করেছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় সন্ত্রাসীরা ফটিকছড়িতে ফিরে নিজেরা সংগঠিত হচ্ছে। প্রতিপক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলার জন্য আনা হচ্ছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অস্ত্র। আর কয়েক মাস পরই দেশে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে পেশী শক্তির মহড়া প্রদর্শন করে এলাকায় কর্তৃত্ব সৃষ্টি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ ও র্যাবের ভয়ে এক সময় এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া সন্ত্রাসীরাই আবার ফিরে আসছে। এদের কারো কারো বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীমহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
উল্লেখ্য, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ভারত সীমান্তের কাছাকাছি উপজেলা হওয়ায় ফটিকছড়িতে নিরাপদ ঘাঁটি গড়ে তোলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী। অতীতে এসব বাহিনীর দাপটে ফটিকছড়ি সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার নাসির, হুমায়ুন, এয়াকুব ও ছাত্রলীগ ক্যাডার শওকত, বলাইয়া, নুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকটি বাহিনীর দাপটে ফটিকছড়িবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। অপহরণ, গুম, খুন, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এসব বাহিনীর দাপট ফটিকছড়ির প্রত্যন্ত জনপদ ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে শিবির ক্যাডার নাসির ও বিডিআর সেলিম গ্রেফতার হওয়ার পর ফটিকছড়িতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নতি লাভ করে। এরপর পুলিশ ও র্যাবের ক্রসফায়ারে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হুমায়ুন, এয়াকুব, হামিদ, ওসমান, লোকমান এবং ছাত্রলীগ ক্যাডার শওকত, বলাইয়া ও নুরুল ইসলামের মৃত্যু এবং দলীয় কোন্দলে ছাত্রলীগ ক্যাডার টিপু, তাজউদ্দিন ও মনসুর এবং শিবির ক্যাডার সেলিম ও বাবুল নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পুলিশ ও র্যাবের নিয়মিত অভিযানে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় গডফাদার হিসাবে পরিচিত কাশেম চেয়ারম্যান, ছাত্রলীগ ক্যাডার আবু তৈয়ব, শিবির ক্যাডার বাইট্টা নাজিম। এদের সাথে এলাকা ছাড়া হয় পাতি ও উঠতি সন্ত্রাসীরাও।
দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর গত ১২ এপ্রিল আবার উত্তাল হয়ে ওঠে ফটিকছড়ি। ভুজপুর থানার কাজীরহাটে আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলার ঘটনায় ৩ ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়। পাশাপাশি শতাধিক ব্যক্তি আহত হয় এবং প্রায় ২০০ মোটর সাইকেল ও বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার, জীপ ও মাইক্রোবাস পুড়িয়ে দেয়া হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা আরো জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সন্ত্রাসীরা তোড়জোড় শুরু করেছে। এদের মধ্যে স্থানীয় ক্যাডার ছাড়াও বহিরাগত সন্ত্রাসীও রয়েছে।
