করম আলির জোছনা দর্শন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৫১
পূর্ব কৈয়া গ্রামে যে রাত জোছনায় ভেসে যায়, চরাচর ডুবে যায় হলুদের বন্যায়, আকাশ থেকে থোক থোক কাঁচা সোনার মতো জোছনা গলে গলে পড়ে, সে রাতে পাহাড়ের ঢালুতে এক নম্বর লেবার লাইনের মানুষের কারও চোখে ঘুম নামে না। অনেকেই ঘুম কামনা করে কিন্তু ঘুমপরি সহজে এই পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসরত মানুষের কারও চোখে ধরা দেয় না। সবাই তখন জেগে জেগে গল্প বলে। কিসের গল্প বলে? না, তারা বানেছা পরি বা দৈত্যের গল্প বলে না। ওরা বলে রাহেলা খাতুনের স্বামী, আমেনা-মোমেনার পিতার গল্প। আমেনা-মোমেনার পিতার নাম করম আলি। কেউ কেউ তাকে করম আলি মুনশীও বলে। কৈয়াছড়া চা বাগানের জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন তিনি। ওই তো হেঁটে যায় করম আলি। আকাশ গলে চাঁদের বান ডেকেছে। জোছনা দেখে দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে করম আলি কাঁঠালপাতা মাড়িয়ে হেঁটে যায়। শুকনো পাতা খচমচ শব্দে মিইয়ে যায় করম আলির পায়ের তলায়। করম আলি আফসোস করে, ‘এ হা মনু, দুঃখ পাইছ?’ শুকনো পাতার সঙ্গে চলে তার কথোপকথন। ‘কী হরমু কও, যাইমু কমিন দিয়া? যাওনের তো রাস্তা নাই। দুঃখ পাইয়ো না।’ না, করম আলি হাঁটে না। তার পায়ের ধুপধাপ শব্দ কেউ শোনেনি। সবাই তাকিয়ে দেখে করম আলি হাঁ করে জোছনা গিলছে। সে যখন হা করত, তখন সবার আগে তার তরমুজের বীচির মতো দাঁতগুলো বেরিয়ে পড়ত। তাতে পানের রং এমনভাবে লেপ্টে থাকত যে, তার দাঁতের স্বাভাবিক রং কেউ কখনো দেখেনি। পানের লাল পিক দু-গালের ঠোঁটের কোশে চিকচিক করত। মাঝেমধ্যে সবাই করম আলির গানের সুর শুনত। তবে যে দুটি লাইন তারা শুনত, তা ছেলে-বুড়োর সবার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। করম আলিকে দেখলেই ছেলের দল সুর করে তার গানের চরণগুলো গাইত। ‘ও মুর্শিদ রে, তোমারে শুধাই আমার ভাঙা তরী লইয়া কোন পথেতে যাই।’ ছেলেদের এইটুকু গান ঠিকই ছিল। কিন্তু তারপরেই তারা ব্যঙ্গ করে বলতে শুরু করত, ‘করম আলি কানা পথ-ঘাট চেনে না। ও মনু ভাত খাইছ, না খাবা? ডাইলে লবণ দিছ, না দেবা?’ করম আলি হাসিমুখে চলে যেত। ছেলের দল সুর করে বলতেই থাকত। সে হাটে গেলে হাতে একটা লাউ কিংবা মূলা থাকতই। আর পানের রসে মুখ ভেজানো ছাড়া তাকে অন্যভাবে কেউ কখনো দেখেনি। তার চিন্তা ছিল মেয়ে দুটোকে নিয়ে। কীভাবে ওদের বিয়ে দেবে, কোথায় বিয়ে দেবে, কার সঙ্গে বিয়ে দেবে—সারাক্ষণ এই চিন্তায় মশগুল থাকত সে। সে ছিল বড়ই সহজ-সরল। ইমামের ধমক-ধামক খেত বেশি। কথাও একটু বেশিই বলত। রাতে মসজিদে থাকত। ভোরের আজান দিয়ে নামাজ পড়ে সে এক নম্বর লেবার লাইনের মধ্যে দিয়ে বাসায় ফিরে আসত। সে রাতে যদি জোছনা ঝরত, তবে করম আলির কণ্ঠেও গুনগুন করে গান বাজত, ‘ও মুর্শিদ রে, তোমারে শুধাই, আমার ভাঙা তরী লইয়া কোন পথেতে যাই।’ ‘বেডা জোছনার লগে কথা কয়, বেডা একটা খবিশ’—চোদ্দটা বিয়ে করা বেটা ওহিদ্যা যখন লাইনের মানুষকে এই কথা বোঝাতে শুরু করে, তখন অনেকেই বলে, ‘বাদ দাও, ওহিদ ভাই, উনি হচ্ছেন আল্লাহঅলা মানুষ, ওর পেছনে লাইগ্যা তোমার কাম নাই।’ ওহিদের ছোট্ট দোকানটায় যারা চা খেতে আসে, তারা ওহিদকে এভাবে বোঝাতে থাকে। কিন্তু ওহিদ অনেক সময় শুনেও না শোনার ভান করে। সে অনর্গল বলে, ‘শালা একটা ভণ্ড। জানে না চেটটাও, হুদাহুদা মানুষ ঠকায়। ভালো কইরা আজান দিতেও জানে না। হেদিন ম্যানেজার পেছিল হালার ওপর। আরেকটু হইলে চাকরিডা খতম হইত। ঘড়ি-টড়ি চিনে না, উল্টা-পাল্টা টাইম দেইখ্যা দিছে আজান, আর ম্যানেজার ডাকাইছে। মুখের উপরে যা-তা কইছে। আমরা কইছিলাম, দেন ছার চাকরিডা খতম কইরা। বেডা ভণ্ড; চুপচাপ থাহে কিন্তু ভিতরে ভিতরে বেডা শয়তান।’ ওহিদের কথা শুনে অনেকেই চুপ মেরে যায়। তারা করম আলি সম্পর্কে এমন কথা শুনতে নারাজ। করম আলি কখনোই কারও পেছনে লাগে না। সে কখনো কাউকে গালি দেয়নি, মারেনি,ধরেনি। তবে কেন ওহিদ করম আলির পেছনে লেগেছে, এ কথা সবাই জেনেছিল অনেক পরে। ওহিদের দোকানের সামনে দিয়ে চলে গেছে প্রধান রাস্তা। লাল মাটির রাস্তার দু-পাশে কাঁঠাল গাছ। পাঁচ হাত পরপর কাঁঠাল গাছগুলো তারুণ্যে ভরা। তাই রাস্তায় সব সময় কাঁঠালপাতা মচমচ করে। কেউ হেঁটে গেলেই পাতার মচমচানি কানে বাজে। ওহিদের চায়ের দোকানে যারা বসে থাকত, তারা মুখ ফিরিয়ে তাকালেও তাকাত তবে ওহিদের মুখ ফেরাতে হতো না। কারণ ওর চোখজোড়া শকুনের মতো রাস্তায় সব সময় পড়ে থাকত। করম আলির ওপর ওহিদের এমন বিরূপ মনোভাবের সঠিক কারণ কেউ কেউ আড়ালে-আবডালে বলে বেড়ায়। কারণটা এই যে, ওহিদ সমপ্রতি মনস্থির করেছে, সে পনেরো নম্বর বউ ঘরে আনবে। এবং এই বউটি সে পছন্দ করেছে, করম আলির বড় মেয়ে আমেনাকে। লোকে বলে আমেনাকে দেখে ওহিদের মায়া লেগেছে বিধায় সে পনেরো নম্বর বিয়ে করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমেনাকে না পেলে তার জীবনে কোনো বিয়ে হয়নি, এই বোধ চিরন্তন হবে—এই কথাও কেউ কেউ বলছে। ওহিদ নাকি গোপনে একদিন ইমাম সাহেব আর করম আলিকে দাওয়াত করেছিল। বেশ ভালোভাবে আপ্যায়নের পর করম আলিকে যখন সে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন করম আলি ম্লান হেসে ঠাট্টাচ্ছলে বলেছিল, ‘এহা বাজান, কও কী? অমন কথা ফের মুখ দিয়া কও বাছে।’ সেই থেকে ওহিদ, করম আলির পেছনে লেগেছে—এই বিশ্বাস যখন অনেকের মনে দানা বাঁধে, তখন ওহিদ করম আলিকে পাগল সাব্যস্ত করার জন্য কিংবা করম আলিকে চাকুরিচ্যুত করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ যখন করম আলিকে ডেকে শুধোয়, ও করম ভাই, তোমার নামে সবাই কী কয়, সত্য নি?’ করম আলি হাসি হাসি মুখে বলে, ‘কী কয়, ওইসব কতা হুনো ক্যা? ওগো মুখ আছে, কইতে দাও, বাজান। কইতে কইতে একদিন মুখ ব্যথা হরলে আর কইবে না। আর আইজকা কইতাছে কউক, কাইলকা ভুইল্লা যাইবে। আরে ওরাই তো আমাগো আপনজন, ওরা কইবে না তো কইবে কারা? আইজকা গাইল দিছে, কাইলকা আদর করবে। কী কও বাজান, সইত্য না?’ কেউ কেউ বলে, ওহিদ সহজে দমবার পাত্র নয়। অতীতে ও যে মেয়েদের টার্গেট করেছে, সবই ঘরে তুলেছে। ও এমন একটা মন্ত্র জানে, ওই মেয়ের নাম ধরে মন্ত্র পড়ে প্রস্রাব করলে ওই মেয়ে এমনিতেই ওর ঘরে চলে আসে। কাজেই লোকজন যারা আমেনাকে বিয়ে করার খবর পেয়েছিল তারা এখন অপেক্ষায় থাকে, কখন আমেনা ওহিদের ঘরে ওঠে। এই জাদুবিদ্যা দেখার জন্য অনেকেই ঘুরঘুর করে। তবে যুবক যারা, প্রতিনিয়ত আমেনার আসা-যাওয়ার পথে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তারা ভাবে আমেনা তাদের মধ্যে থেকেই কাউকে বেছে নেবে। আমেনা কাজ করে ম্যানেজারের বাসায়। এর জন্যে ও লাইন দিয়ে যাবার সময় অনেকেই ওকে ঘাটাতে চায় না। যদি ম্যানেজার বাবুকে সত্যি-মিথ্যা লাগিয়ে দেয়, তবে চৌকিদার দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে রাম ধোলাই দেবে। কাজেই আমেনার আসা-যাওয়ার পথে যারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তারা অনেকেই চোখ জুড়িয়ে শুধু আমেনার রূপ-যৌবন দেখে, তা ছাড়া কথা বলার সাহসটুকুও তারা পায় না। তবে আমেনা স্বাভাবিকভাবে এপাশ-ওপাশ তাকিয়েই চলে। এতে অনেক সময় অনেক যুবকের ওপর তার যে চোখ পড়ে না, তা কিন্তু নয়। এতে অনেকেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করে। তবে ওহিদের দোকানের সামনে এলে আমেনার পা-জোড়ায় বিদ্যুত্ খেলে। তখন ওহিদের মুখে একটি গানের কলি বেজে ওঠে। ‘রইস্যা বন্ধু যারগই বুকত শেল মারি’। সকালে, দুপুরে এবং সন্ধ্যায় একই গানের সুর শুনতে শুনতে সবার জানা হয়ে গেছে, ওহিদ কোন সময় গানে টান দেবে। অপরদিকে যারা আমেনার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারা দেখে আমেনার পা-জোড়াতে যদিও বিদ্যুত্গতি এসেছে, তা সত্ত্বেও তার ঠোঁটের কোণে বিজলি চমকে উঠেছে। করম আলির লাউ খেতের সবুজ সবুজ পাতা জোছনার ঢলে কালচে লাগে। এশার নামাজ পড়ে যখন করম আলি খেতে আসে, তখন লাউয়ের মাচাঙের সামনে দাঁড়িয়ে লাউয়ের ডগার দিকে একমনে তাকিয়ে থাকে। রাহেলা খাতুন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে স্বামীকে অমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে— ‘এ হা, তোমারে কি ভূতে ধরছে? খাইতে আহো না ক্যা?’ ‘আমেনার মা, দেকছ, কী সুন্দর কাইলচা সবুজ লাউপাতা। আকাশেরতুন জোছনা চুইয়া পড়তাছে, এ হা, কী সুন্দর দেকছ?’ ‘ঢং হরো, বুইরা কালে তোমারে ভূতে পাইছে, না?’ রাহেলা খাতুনের কথায় করম আলির ভাবাবেগ বাড়তে পারে না। লোকে বলে, করম আলির ঘরে অভাব-অনটন ছিল। আর করম আলির বউয়ের বারো মাস অসুখ-বিসুখ লেগে থাকত। সে খুব অভাবী মানুষ ছিল। সেই অভাবী মানুষটার চাকরি একদিন চলে গেল। কেন গেল? কী দোষ করম আলির? করম আলি একদিন ফজরের নামাজের আগেই আজান দিয়ে ফেলেছে। সেই অপরাধে তাকে ডাকা হলো। ম্যানেজার যা-তা গালি-গালাজ করল, করম আলি চুপচাপ মাথা নিচু করে শুনল। গালি-গালাজেই থামল না ম্যানেজার সাহেব। বারবার ধমকে করম আলিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন সাহসে তুমি রাতের তিনটা বাজে আজান দিলা, বলো? চুপ করে থাকবা না।’ করম আলি মিনমিন করে বলল, ‘ছার, এই কথা আপনারডে কওয়া যাইবে না।’ ‘বলা যাবে না! কী বলো?’ ম্যানেজারের চোখ কপালে ওঠে। তিনি আরও বেশি রেগে ওঠেন। ম্যানেজারের রাগ দেখে ভয়ে করম আলি থরথর করে কাঁপতে লাগল। বলল, ‘ছার, আমি বলতে পারতিছি না, তেনারা আমারডে মানা কইরা গেছে। কইছে খবরদার, এই কতা কারোরডে কও বাছে! এ কথা কইলে তোমার খেতি হইবে।’ ম্যানেজার আরও জোরে ধমকে ওঠেন। ‘গাঁজা খাইছ বেটা, আজগুবি গল্প বানাও না? ধইরা পিটুনি দিলে বুঝবা।’ করম আলি দেখে, না বললে তার নিস্তার নেই। সে মিনমিন করে বলতে থাকে, ‘ছার, তেনারা লম্বা চাইরজন মানুষ আয়ছেলে মছজিদে। উনাগো চেহারা দেকলেই বুঝা যায়, তেনারা যেমন-তেমন মানুষ না। তেনারা কইল, করম আলি আজান দাও, আমরা নামাজ পইড়া এই মসজিদ থাইকা বাবার উদ্দেশে রওয়ানা হব। ইয়া লম্বা লম্বা দাড়ি,পাগড়ি, আচকান খুশবুতে মসজিদ মউমউ করতে আছিলে। মুই আর না করতে পারি নাই। ঘরির কাডা দেহি, সময় হইয়া আইল্লে। তা ছাড়া বারো আউলিয়ার দেশে কোনো আউলিয়ারে নাখোশ কইরা মুই আবার কোন বিপদে পড়ি। তাই সোবহানাল্লাহ কইয়া মুই আজান দিলাম।’ ‘ঠিক করছ। এহন যাও, ঘরে বইসা আঙুল চোষো গা।’ করম আলির চাকরি চলে গেল। তার অদ্ভুত কাহিনি লোকের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে গেল। কেউ কেউ গভীরভাবে বিশ্বাস করল। আবার কেউ কেউ ভণ্ড বলে আখ্যা দিল। তবে সবাই পরের দিন বুঝতে পারল, আসলে করম আলি মিথ্যা কথা বলেনি। করম আলি বলেছিল, এই কথা বলে দিলে তার ক্ষতি হবে। ঠিকই যেদিন করম আলির চাকরি চলে গেল, সেদিন রাতে করম আলি তার বাড়ির নিচের দিকে জমিনের ওপর সেজদা দিয়ে পড়ে রইল। সে রাতে জোছনা ছিল। জোছনার বান ডেকেছিল সে রাতে। অবিশ্বাস্য জোছনায় চারপাশ ভেসে যাচ্ছিল। শেষ রাতে জমিনের মধ্যে কেন করম আলি নামাজ পড়তে গিয়েছিল, তা কারও মাথায় ঢোকে না। সকালে দেখা গেল, নামাজের মতো করে বসে আছে করম আলি। গায়ে কোথাও তার কোনো আঁচড়েরর দাগ নেই। কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। জায়নামাজের ওপর সুন্দর মানুষ, ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি পরে বসে আছে। কেউ বলে, আসলে করম আলি বসে ছিল না, সে সেজদা দেবার ভঙ্গিতে ছিল, কেউ কেউ বলে—না, করম আলি আকাশের দিকে তাকিয়েছিল। কারণ, সেই রাতে জোছনা ছিল। করম আলি জোছনা ভালোবাসত। তাই জোছনার মধ্যে খোলা মাঠের মধ্যে নামাজ পড়তে গিয়েছিল। আর তেনারা আইসা করম আলির জান কবজ কইরা নিয়া গেছে। কারণ, করম আলি অপরাধ করেছে। তেনাগো কথা ম্যানেজাররে কইয়া দিয়া করম আলি পাপ করছে। এই জন্যে তেনারা করম আলিরে মাইরা ফেলাইছে। এরপর যে ওহিদ করম আলিরে ভণ্ড বলত, সে-ই করম আলির প্রশংসা-গুণগান শুরু করল। করম আলির দাফনের ব্যবস্থা সে-ই করল। শুধু তা-ই নয়, চার দিনের দিন করম আলির রুহের মাগফেরাতের জন্য সে মিলাদ শেষে সবাইকে ডাল-ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করলে অনেকেই ওহিদের এই কাজটির প্রশংসা করে। করম আলির জোছনা দর্শন সম্পর্কে উপযুক্ত ব্যাখ্যাও এখন ওহিদই মানুষকে বলে বেড়ায়। কারণ, আরেকটি জোছনা রাত আসার আগেই লোকজন আগাম সেই জোছনা রাতের গল্প বলতে থাকে। আর সেই জোছনা রাতের গল্পে করম আলি না থাকলেও লোকজন অবাক হয়ে দেখে, সেখানে তার মেয়ে আমেনা রয়েছে। আর আমেনা সুন্দর লাল শাড়ি পড়ে ওহিদের ঘর থেকে বেরোলে লোকজন ওহিদের জাদুবিদ্যায় বিশ্বাস স্থাপন করতে চায়। আর ওহিদ লোকজনকে করম আলির জোছনা দর্শন সম্পর্কে আলোকপাত করে তাকে সবার সামনে ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পায়।